ঢাকা: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রস্তাবিত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল করল বাংলাদেশ (Bangladesh)। সেখানে চিনের সঙ্গে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বা সামরিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার তৈরী করেছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার-থেকে-সরকার (G2G) চুক্তির আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনের অংশ হিসেবে একটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮৫০ একর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতই থেকে যায়।
‘অকর্মণ্য দমকলমন্ত্রী চাই না’, কলকাতার রাস্তায় যুব কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল
ভারতের কনসেশনাল লাইন অফ ক্রেডিট (LoC) থেকে অর্থায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্পটি কখনও গতি পায়নি। ভারতীয় সংস্থাগুলির আগ্রহ কম ছিল, কাজ শুরুই হয়নি, এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পটি G2G ফ্রেমওয়ার্ক থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর অক্টোবর ২০২৫-এ ড. মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অব্যবহৃত ৮৫০ একর জমিতে একটি ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বা মিলিটারি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে।
BEZA-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ভারতীয় প্রকল্প বাতিল হওয়ায় জমিটি দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। এখন এই এলাকাকে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যেখানে অস্ত্র, যন্ত্রাংশ এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রফতানি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ডিফেন্স-ফোকাসড ইকোনমিক জোন।
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সামরিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর কৌশল। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও অস্ত্র সরবরাহের ঝুঁকি বিবেচনা করেই দেশীয় সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তুলতে চায় ঢাকা। তবে কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন।
মিরসরাই চট্টগ্রামের কাছাকাছি এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই এলাকায় ডিফেন্স ইকোনমিক জোন গড়ে উঠলে তা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। আরও বিতর্ক তৈরি করেছে কিছু রিপোর্ট, যেখানে দাবি করা হয়েছে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে এখানে ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং বা ডিফেন্স প্রোডাকশন ইউনিট গড়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক যে অনেকটাই গভীর হয়েছে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
যদিও BEZA-এর পক্ষ থেকে চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি এবং এটিকে ‘দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ’ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তবুও ভারতীয় মিডিয়া ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে আরেকটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। হাসিনা সরকারের সময়ে যে ভারত–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা দৃঢ় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ভারসাম্য বদলাচ্ছে বলেই ধারণা।




















