বাংলাদেশে বাজেয়াপ্ত বিপুল চিনা বেআইনি অস্ত্র! নজরে উত্তর পূর্ব ভারতের জঙ্গি যোগ

ঢাকা: বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় (bangladesh)বেআইনি অস্ত্রের চালান বাজেয়াপ্ত করেছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪,৯০০ অত্যাধুনিক অস্ত্র, ২৭,০০০ গ্রেনেড, ৮৪০ রকেট…

bangladesh-chinese-illegal-arms-seizure

ঢাকা: বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় (bangladesh)বেআইনি অস্ত্রের চালান বাজেয়াপ্ত করেছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪,৯০০ অত্যাধুনিক অস্ত্র, ২৭,০০০ গ্রেনেড, ৮৪০ রকেট লঞ্চার, ৩০০ রকেট এবং ১১ লক্ষ ৪০ হাজার গুলি। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র চিন থেকে পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এসব অস্ত্র।

এই ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, এই অস্ত্রগুলো যদি গন্তব্যে পৌঁছে যেত, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারতে অশান্তি আরও বৃদ্ধি পেত। অনেক বিশ্লেষক এই চালানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন।ঘটনাটি ২০০৪ সালের সেই বিখ্যাত ‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা’র স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবারও চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল অস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।

   

আরও দেখুনঃ ‘আমরা হুসেন সোহরাওয়ার্দীর উত্তরসূরি!’ পশ্চিমবঙ্গ থেকে হিন্দুদের তাড়ানোর হুমকি জামাত নেতার

সেই মামলায় বর্তমান বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নাম জড়িয়েছিল। এবারও তদন্তকারী সংস্থাগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। অনেকে বলছেন, এই ধরনের বড় চালান ছাড়া উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়। তবে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।ঢাকার এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “এই বাজেয়াপ্ত অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে এটি কোনো সাধারণ চোরাচালান নয়।

আরও দেখুনঃ গুয়াহাটিতে পুলিশের বড় অভিযান! উঠে এল ১০০ কোটির জাল নোটের সাম্রাজ্য

এর পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। চিনা অস্ত্রের চালান আসা মানে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গেও এর যোগসূত্র থাকতে পারে।” ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এই খবর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে যেখানে ইতিমধ্যে অস্থিরতা রয়েছে, সেখানে এত অস্ত্র পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেত। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনার পর সীমান্ত নজরদারি আরও বাড়িয়েছে।

আরও দেখুনঃ বারবার খারিজ জামিন! মানসিক চাপে ম্যাসিভ স্ট্রোক চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, “এত অস্ত্র যদি দেশের ভেতরেই থেকে যেত, তাহলে আমাদের দেশেই অশান্তি ছড়াত। জব্দ করতে পেরেছে বলে স্বস্তি। কিন্তু যারা এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।” অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এই অস্ত্রগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতেও ব্যবহার হতে পারত।