
অনন্তনাগ: জম্মু ও কাশ্মীরে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন মোড়। (Anantnag)প্রশাসনের বুলডোজার গর্জে উঠেছে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে। বিজবেহারার ওয়াঘামা এলাকায় নামকরা ড্রাগ পেডলার সাজাদ আহমদ রাদারের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫টি দোকানসহ এই বড় স্ট্রাকচারটি রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অনন্তনাগ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এই ধ্বংসাত্মক অভিযান চালানো হয়েছে। জাতীয় সড়ক-৪৪ এর পাশে অবস্থিত এই সম্পত্তিটি মাদক ব্যবসার টাকায় গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। সাজাদ রাদার, যিনি ওয়াঘামা গ্রামের বাসিন্দা, দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের রেকর্ডে রয়েছে। ২০১৭ সালের একটি এনডিপিএস মামলায় তাঁর নাম জড়িত। প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান ‘১০০ দিনের নশা মুক্ত জম্মু-কাশ্মীর’ ক্যাম্পেইনের অংশ।
আরও দেখুনঃ শশী পাঁজাকে প্রবেশে বাধা, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র নিয়ে নতুন বিতর্ক
মাদকের মূল উৎসে আঘাত হানতে এবং অবৈধ সম্পত্তি উদ্ধার করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদা-লাল রঙের এই বাণিজ্যিক ভবনটিতে কাশ্মীর রেস্তোরাঁ, তাজ রেস্তোরাঁসহ একাধিক দোকান ছিল। এগুলো সবই রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা এসডিএম ও তহশিলদারের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন। পুলিশের টিম, বিশেষ করে বিজবেহারা থানার এসডিপিও-র নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনের ছবি পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় যুবক বলেন, “মাদকের কারণে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সমাজের অনেক উপকার হবে।”
তবে কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অভিযান যেন নিরীহ পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। প্রশাসন অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র অবৈধ এবং মাদকের টাকায় গড়া সম্পত্তির বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জম্মু-কাশ্মীরে মাদক সমস্যা দীর্ঘদিনের। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই অঞ্চল ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ।
যুবকদের মধ্যে মাদকাসক্তির হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরে কড়া অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতার, মামলা এবং এখন অবৈধ সম্পত্তি ধ্বংস এই ত্রিমুখী কৌশলে মাদক নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে। সাজাদ রাদারের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘বড় বার্তা’ হিসেবে দেখছেন।













