
লিসবন: পর্তুগালে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। (Portugal)রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাংলাদেশি মুসলিম অভিবাসীদের বচসা বাঁধে। সেখান থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। স্থানীয়রা রাস্তায় নামাজ না পড়ে মসজিদে যাওয়ার অনুরোধ জানালে বাংলাদেশিরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা বাংলাদেশিদের পিটিয়ে আহত করেন।
🚨🇵🇹 Portugal:
When locals told Bangladeshi muslim immigrants not to pray on the streets insted of Mosques, they attacked locals.
There are huge numbers of Bangladeshi workers in Italy, Portugal & Greece who are very uneducated and most probably entered illegally. pic.twitter.com/bmdWYyGvtO
— Lizard King 🇧🇩🕉️ (@TheLizardKing_X) May 23, 2026
এই ঘটনা ইউরোপজুড়ে অভিবাসী ইস্যুতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে পর্তুগালের একটি শহরতলিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসী প্রতিদিন রাস্তায় নামাজ পড়ছিলেন। এতে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অসুবিধায় পড়ছিলেন। একদিন স্থানীয় কয়েকজন তাদের অনুরোধ করেন যে নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে।
আরও দেখুনঃ ভারত বিরোধী চিনের খনি দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে মানবিক মোদী
এই অনুরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি অভিবাসীরা উত্তেজিত হয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় যুবকরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং কয়েকজন বাংলাদেশিকে মারধর করেন।পর্তুগিজ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় মেয়র বলেছেন, “আমরা সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু রাস্তা কোনো ধর্মীয় স্থান নয়। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।”পর্তুগালসহ ইতালি ও গ্রিসে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেকেই নিম্নশিক্ষিত এবং কেউ কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন বলে স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা। তারা মূলত নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী ও কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভ্যাস নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘাত বেড়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির এক প্রতিনিধি বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু অনেক সময় স্থানীয়রা আমাদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। মসজিদ কম থাকায় অনেকে রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য হন।” অন্যদিকে পর্তুগিজ নাগরিকরা বলছেন, “এটা তাদের দেশ। এখানে এসে তাদের স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতি মেনে চলতে হবে। রাস্তা আটকে নামাজ পড়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পর্তুগাল সরকার অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। ইতালি ও গ্রিসেও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে, যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা বেশি। অনেক ইউরোপীয় দেশ মনে করছে, অভিবাসীদের সংস্কৃতিগত অভিযোজনের অভাব সমাজে উত্তেজনা তৈরি করছে।







