
ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের মান যে ক্রমশ নিচের দিকে নামছে, তার বড় প্রমাণ মিলল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নতুন সিদ্ধান্তে। কয়েক বছর আগেও ভারতের ক্লাবগুলো এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৭-২৮ মরশুমে ভারতীয় ক্লাবকে খেলতে হবে এএফসি-র তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা, অর্থাৎ এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের যোগ্যতা অর্জন পর্বে। সরাসরি মূলপর্বে জায়গা নয়, বরং প্লে-অফ পেরিয়ে সুযোগ করে নিতে হবে।
এই পরিবর্তন ভারতীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী ২০২৬-২৭ মরশুমে অবশ্য ভারতের ক্লাবগুলো এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর প্লে-অফে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। চলতি মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল এবং সুপার কাপ জিতেছে এফসি গোয়া। ফলে এই দুই ক্লাবই এশিয়ার মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে। কিন্তু তাদেরও সরাসরি মূলপর্বে খেলার সুযোগ নেই। প্লে-অফে জিততে পারলেই কেবল গ্রুপ পর্বে পৌঁছনো সম্ভব হবে।
একসময় ভারতীয় ক্লাবগুলোর জন্য এশিয়ার প্রতিযোগিতায় সরাসরি জায়গা পাওয়া খুব অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু বর্তমানে এএফসি ভারতের ফুটবল কাঠামো এবং লিগ ব্যবস্থাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার অন্যতম কারণ আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা। লিগের ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। মরশুম সংক্ষিপ্ত হওয়ায় দলগুলো পর্যাপ্ত ম্যাচও খেলতে পারেনি। এবারের আইএসএলে মাত্র ১৩টি করে ম্যাচ হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি লিগে দীর্ঘ সময় ধরে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে অন্তত ২৪টি ম্যাচ হওয়া প্রয়োজন। সেই শর্ত পূরণ করতে না পারায় ভারতের ক্লাব ফুটবলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের ক্লাব ফুটবলের অবনমনের পিছনে মাঠের পারফরম্যান্সও বড় কারণ। গত মরশুমে এফসি গোয়া এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে মোহনবাগান টানা দু’বার ইরানে খেলতে যায়নি। এ ধরনের ঘটনা এশিয়ার ফুটবল প্রশাসকদের চোখে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ফলে র্যাঙ্কিংয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ভারতের ক্লাব ফুটবলের অবস্থান এখন ১৫ নম্বরে। গোটা এশিয়ায় স্থান ২৬।
সব মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবল এখন এক কঠিন সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে। যে দেশ একসময় এশিয়ার বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন দেখত, সেই দেশকেই এখন তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা ভুটানের মতো দেশের ক্লাবগুলোর সঙ্গে একই স্তরে নেমে আসা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্লাবগুলোর এশিয়ার মানচিত্রে অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।







