কলকাতা: বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে জলঘোলা হয়েছে প্রচুর। (Amit Shah)প্রথম তালিকায় যাদের নাম আসেনি তাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। শুনানি শেষে সেখান থেকে বাদ গিয়েছে ৬০ লক্ষ নাম। বিচারাধীন তালিকায় থাকার পর প্রথম প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছে ১২ লক্ষ নাম। এই আবহেই নির্বাচনের আগে বাংলায় এসে বাদ পড়াদের মনে কার্যত ভয়ের সঞ্চার করে দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি কলকাতার সভা থেকে বলেন “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নয়, দেশের প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে এক এক করে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। মমতা বন্দোপাধ্যায় যত ইচ্ছে অভিযোগ করুন, তাতে কিছু যায় আসে না।”অমিত শাহ বলেন, ভোটার তালিকা থেকে শুধু অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা হচ্ছে। এখন শুধু নাম মুছে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু বিজেপি যদি বাংলায় সরকার গঠন করে, তাহলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ ময়দানের গ্যালারি ফাঁকা! কমছে দর্শক, হারাচ্ছে কি কলকাতার ফুটবলের প্রাণ?
অমিত শাহ মমতা বন্দোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলেন, “মমতা দিদি, আপনি যতই অস্বস্তিতে পড়ুন, ধৈর্য ধরুন। শুধু নাম কাটা নয়, আমরা প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠাব।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের সময় বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীদের ‘স্বর্গ’ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। সীমান্ত রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে হিন্দু শরণার্থী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের আশ্বস্ত করে শাহ বলেন, “তাঁদের কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। তাঁরা নিরাপদ।” এই মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, অমিত শাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে রাজ্যের সংখ্যালঘু ও দরিদ্র মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতারা শাহের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি তার প্রচার জোরদার করছে।




















