
অবশেষে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। এই ফলাফল শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই বাংলার মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি আবেগঘন বার্তায় লেখেন, ‘বাংলায় পদ্ম ফুটল! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং BJP-র সুশাসনের রাজনীতির জয় হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি মানুষকে প্রণাম জানাই।’ তাঁর এই বার্তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করে।
মোদীর বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি এই জয়কে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন না, বরং জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শক্তি হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর এই সাফল্য যে দলের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা তাঁর কথাতেই ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই জয়ের পেছনে দলের কর্মীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছানোর এই কঠিন যাত্রায় যেসব কর্মী নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি, সেই সকল কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে প্রণাম জানাই।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই জয়কে তিনি ত্যাগ, সংগ্রাম এবং সংগঠনের শক্তির ফল হিসেবে দেখছেন।
শাহ আরও বলেন, বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে সেই সব কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যাঁরা দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল এবং তারা সেই পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট মত দিয়েছে।
এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে BJP নেতৃত্ব ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের ওপর জোর দিয়ে আগামী দিনের রূপরেখা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা দিন-রাত এক করে বাংলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন এবং রাজ্যকে দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোবেন












