আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের (ODI World Cup) আসর বসতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং জিম্বাবোয়েতে। আর পেস-সহায়ক সেই প্রোটিয়া ভূমে ভারতের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার! অন্তত এমনটাই মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর মতে, জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের উচিত অবিলম্বে ভুবনেশ্বরের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে আসন্ন বিশ্বকাপের মূল ভাবনায় ফিরিয়ে আনা।
পরিসংখ্যানের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই শেষবার পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটে দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন ‘ভুবি’। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শেষ উপস্থিতি ২০২২ সালের নভেম্বরে। কিন্তু বয়স যে শুধুই একটা সংখ্যা, সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) জার্সিতে তা রীতিমতো চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছেন ৩৬ বছরের সুইং মাস্টার। বেঙ্গালুরুকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্যে তাঁর ২৮টি উইকেটের অনবদ্য অবদান রয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন তিনিই।
ভুবির সেই দুরন্ত ফর্মের কথা মাথায় রেখেই এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনের জোরালো সওয়াল, “ভুবনেশ্বর কোথায়? আমি হলে ওর সঙ্গে কথা বলে বিজয় হাজারে ট্রফি থেকে শুরু করে সব ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলাতাম। ওকে সেরা ফর্মে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যেতে হবে, ওখানে ওকে আমাদের মারাত্মক প্রয়োজন।”
তবে অশ্বিন সওয়াল করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। বর্তমান নির্বাচক কমিটির দর্শন অনেকটাই আলাদা। আগরকরের নেতৃত্বাধীন কমিটি জসপ্রীত বুমরাহ এবং মহম্মদ সিরাজের পাশাপাশি গুরনুর ব্রার বা প্রসিধ কৃষ্ণার মতো দীর্ঘকায়, গতিশীল এবং ‘হিট-দ্য-ডেক’ পেসারদের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। ১২১টি ওয়ান ডে ম্যাচে ১৪১টি উইকেটের মালিক ভুবনেশ্বর সুইংয়ের জাদুকর হলেও, তাঁর বয়স এবং বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথে বড়সড় কাঁটা।
আগামী বছর অক্টোবর-নভেম্বরে ১৪ দলের মেগা যুদ্ধ। প্রোটিয়াদের বাউন্সি পিচে কি সত্যিই ভুবির অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখবে ভারত? নাকি গতির উপরেই আস্থা রাখবেন আগরকররা? অশ্বিনের এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তার পর বল এখন নির্বাচকদের কোর্টে।




