ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশামাফিক হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে কলকাতা ডার্বিতে হার দিয়ে মরশুম শুরু করায় সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই ধাক্কা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ লাল-হলুদের সামনে। শনিবার ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আন্তোনিও লোপেজ আবাসের দল মুখোমুখি হবে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। ফলে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যে দল আজ হারবে, তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। সেই কারণে ম্যাচটি দুই দলের কাছেই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। তবে শক্তির বিচারে ইস্টবেঙ্গল স্পষ্ট ফেভারিট। তাই শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গোল ব্যবধানও বাড়িয়ে রাখাই লক্ষ্য থাকবে লাল-হলুদের।
আরও পড়ুন: ২০০০ কোটি ডলারের হাতছানি! বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় বিতর্কে FIFA
ডার্বির পর ইস্টবেঙ্গল বেশ কয়েকদিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দলকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কোচ আবাস। বিশেষ করে ফুটবলারদের ফিটনেসের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে দলের বোঝাপড়া বাড়ানোর দিকেও নজর দিয়েছে কোচিং স্টাফ।
ডার্বির আগে মাত্রই দলে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশি মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ। পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় তাঁকে পুরো ম্যাচ খেলানো সম্ভব হয়নি। একই অবস্থা ছিল রামিরেসেরও। তিনি পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। কয়েকদিনের প্রস্তুতির পর এবার দু’জনই অনেক বেশি ম্যাচ-ফিট। ফলে মাঝমাঠে এবং আক্রমণে তাঁদের কাছ থেকে আরও কার্যকর পারফরম্যান্সের আশা করছেন কোচ।
ডার্বিতে দ্বিতীয়ার্ধে নেমে নিজের গতিতে আক্রমণে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পিভি বিষ্ণু। তাঁর পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল। তাই এদিন শুরু থেকেই তাঁকে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি জেসিন টিকেও প্রথম একাদশে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার পরিকল্পনাই রয়েছে আবাসের।
আরও পড়ুন: ফুটবলে রাজনীতির থাবা! রাশিয়ার সংস্থার চুক্তিতে বিতর্ক, ইতালির কোচে না আন্দ্রেয়া পিরলোর
সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত দল হলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে চাইছে না ইস্টবেঙ্গল। বরং নিজেদের খেলার মান আরও উন্নত করাই দলের মূল লক্ষ্য। ডার্বিতে হারলেও ফুটবলারদের লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন আবাস। তবে সেই ম্যাচে যে ভুলগুলো সামনে এসেছিল, সেগুলো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলাদা করে কাজ করা হয়েছে। রক্ষণে আরও সংহতি এবং আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানোর দিকেই জোর দিয়েছে কোচিং স্টাফ।
এদিকে ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের নজর রয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর প্লে-অফেও। আগামী ১২ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে লাল-হলুদ। তার আগে দলের বিদেশি শক্তি আরও বাড়বে। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এফিয়ং শীঘ্রই দলে যোগ দেবেন। ছয় বিদেশিকে একসঙ্গে পাওয়ার পর দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডুরান্ড কাপের পরবর্তী পর্বে তাঁকেও মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও একটি বিশেষ আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই ম্যাচকে ঘিরে। কারণ, রাত পোহালেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষে ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না দল। ফুটবলাররাও জানেন, একটি ভালো পারফরম্যান্স শুধু টুর্নামেন্টে দলের অবস্থানই মজবুত করবে না, সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে আনবে।





