টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভকে সন্ত্রাসবাদী বলে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল রাশিয়া

মস্কো: রাশিয়া, টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের (Pavel Durov)বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে তাকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি (FSB) অভিযোগ…

pavel-durov-russia-wanted-list

মস্কো: রাশিয়া, টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের (Pavel Durov)বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে তাকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি (FSB) অভিযোগ করেছে যে, দুরোভ ইউক্রেনের বিশেষ সেবা সংস্থাগুলিকে সাহায্য করে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সহায়তা করেছেন।

এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে বড় আলোড়ন তুলেছে, কারণ টেলিগ্রাম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম।রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুরোভের বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসবাদে সাহায্য” এবং “ইউক্রেনীয় বিশেষ সংস্থাগুলিকে সহায়তা” করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে, টেলিগ্রামের মাধ্যমে ইউক্রেনের বিভিন্ন গ্রুপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বয় ও অপারেশন চালিয়েছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ‘বিক্ষোভকারীরা ভারতের মতো শত্রু’! POK-তে ১৪ জনের মৃত্যুর পর বিস্ফোরক পাক মন্ত্রী

রাশিয়া মনে করে, দুরোভ তার প্ল্যাটফর্মের গোপনীয়তা বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করে জঙ্গিদের সুরক্ষা দিয়েছেন। ফলে তাকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে পাভেল দুরোভ ফ্রান্সে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।পাভেল দুরোভকে অনেকে “রাশিয়ান মার্ক জুকারবার্গ ” বলে ডাকেন। তিনি ২০১৩ সালে টেলিগ্রাম চালু করেন। অ্যাপটি তার দ্রুত গতি, এনক্রিপ্টেড চ্যাট এবং চ্যানেল ফিচারের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে যেসব দেশে সরকারি নজরদারি বেশি, সেখানে টেলিগ্রাম অনেকের কাছে নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই একই গোপনীয়তা এখন তার জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর টেলিগ্রাম দিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও তাদের সমর্থকরা রাশিয়ান অবস্থান সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেছে এবং অপারেশন পরিকল্পনা করেছে।এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আরও দেখুনঃ নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারত বিরোধী বালেন শাহকে ভারতে ডেকে কূটনীতির বড় চাল মোদীসরকারের

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। একদল মনে করেন, দুরোভ সরকারি চাপের কাছে মাথা নত করেননি বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আগেও রাশিয়ায় চাপের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্যদিকে, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সমর্থকরা বলছেন, কোনো প্ল্যাটফর্মই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতে পারে না। জাতীয় নিরাপত্তা সবার আগে।