নয়াদিল্লি: আগামী ৪ আগস্ট দিল্লির রাস্তায় আবারও দেখা যাবে বড় আন্দোলন। (E20 Protest)দিল্লি ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন সংসদের দিকে মিছিল করে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের দাবি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (ই২০) ব্যবহারের কারণে মাইলেজ কমে যাচ্ছে, ইঞ্জিনের সমস্যা বাড়ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে। চালকরা চান, সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা হোক।
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পর সরকারের জন্য এটি আরেকটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।দিল্লি ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, ই২০ চালু হওয়ার পর ট্যাক্সি চালকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। একজন ট্যাক্সি চালক রাজেশ কুমার বলেন, “আগে এক লিটারে যেখানে ১৮-২০ কিলোমিটার চলত, এখন সেটা ১৪-১৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়, মাইলেজ কমে।
আরও দেখুনঃ রাঁচিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৫ লক্ষের মাও নেতা দিলীপ
এতে আমাদের রোজগারে প্রভাব পড়ছে।” অনেক চালকের অভিযোগ, ইথানলের কারণে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে দ্রুত। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা চাপে পড়েছেন।সরকারের দিক থেকে ইথানল মিশ্রণকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়, আমদানি কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ইথানলের ব্যবহার বাড়লে পেট্রোলের আমদানি কমবে, বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নির্গমনও কমবে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় চালকরা যে সমস্যার কথা বলছেন, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে ই২০-এর প্রভাব নিয়ে স্বাধীন গবেষণার দাবি তাই যৌক্তিক।অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে থাকা অপরাধীদের ছাড় নেই! সাফ জানাল সুপ্রিমকোর্ট
কিন্তু সন্তোষজনক সমাধান মেলেনি। তাই ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখী মিছিল। তাঁরা চান, সব পক্ষকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হোক। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চালক, কৃষক এবং সরকারের প্রতিনিধিরা মিলে ই২০-এর বাস্তব প্রভাব খতিয়ে দেখুক। যদি সমস্যা থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হোক।
এই আন্দোলনের পটভূমিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়ছে। নীট পেপার লিক নিয়ে বড় আন্দোলনের পর সরকারের জন্য এটি আরেক চ্যালেঞ্জ। একদিকে পরিবেশ ও কৃষি খাতে সুবিধা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের বাস্তব অসুবিধা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য ঠিক আছে, কিন্তু বাস্তবায়নে আরও সতর্কতা দরকার। গাড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিশ্রণের অনুপাত নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের মান উন্নয়ন এবং চালকদের প্রশিক্ষণ জরুরি।
আরও দেখুনঃ খুন, যৌন হেনস্থা থেকে অস্ত্র আইন: দিল্লির প্রতিবাদে এআই নজরে ২৯০০ দাগী আসামি





