নয়াদিল্লি: লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla)ব্যক্তিগত আবেদনে অবশেষে ভাঙল সংসদের অচলাবস্থা। সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সব বড় রাজনৈতিক দল পাবলিক পরীক্ষা (অন্যায় উপায় প্রতিরোধ) সংশোধন বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হবে।
এই সিদ্ধান্তকে সংসদীয় গণতন্ত্রের জয় বলে অভিহিত করা হচ্ছে।স্পিকার ওম বিড়লা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই বিল অত্যন্ত জরুরি। সংসদ চলাকালীন অচলাবস্থা কোনো পক্ষের জন্যই কাম্য নয়। তাঁর এই আন্তরিক আবেদনে ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী বেঞ্চ উভয়ই ইতিবাচক সাড়া দেয়।
আরও দেখুনঃ NEET পরীক্ষায় ক্ষতি হচ্ছে প্রাইভেট মালিকদের! মোদীর বিরুদ্ধে চক্রান্তের রেকর্ডিং ফাঁস
কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর সব দল একমত হয় যে, বিলটি মঙ্গলবার থেকে আলোচনার জন্য তোলা হবে।পাবলিক পরীক্ষা (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিলটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি নিট, ইউজিসি-নেট, সিএসইসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পেপার লিক, প্রক্সি পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়মের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই বিলে পরীক্ষায় অন্যায় উপায় অবলম্বনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে জেল, জরিমানা এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হল পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করা।বিরোধী দলগুলি আগে বিলটি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছিল।
আরও দেখুনঃ আমুলের হাত ধরেই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ‘ঘরওয়াপসি’র পথে আরও এক ধাপ শুভেন্দুর
তাঁরা চেয়েছিলেন বিলটি আরও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে পাস করা হোক। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরাও এখন সম্মত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। স্পিকার ওম বিড়লা এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সব পক্ষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদ হল আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার জায়গা, অচলাবস্থা তৈরির নয়।





