নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, কেবল আন্দোলন বা বিক্ষোভ চলছে বলেই সেখানে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা যায় না।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন পিটিশনের শুনানির সময় এই পর্যবেক্ষণ দেয় শীর্ষ আদালত। এর মধ্যে একটি আবেদন করেছে একদল ছাত্র-ছাত্রী, যাঁদের অভিযোগ বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের মারধর করা হয়েছিল। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের পক্ষ থেকেও একটি আবেদন আদালতের গোচরে আনা হয়।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের নিজস্ব শর্ত হিসেবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে তাদের মতপ্রকাশের পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে, তবে একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে যাতে অসামাজিক উপাদানগুলি এই ধরনের বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। আদালত মনে করে, বিক্ষোভ দমনের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ রোধ করতে সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল বা নির্দেশিকা থাকা বাধ্যতামূলক।
বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকর্মীদের সুরক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশকর্মী ও বিক্ষোভকারী, উভয় পক্ষের আহত হওয়ার ঘটনাই সমান উদ্বেগের। শুনানির সময় আদালতে বিহারের সিওয়ানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের মতো মারাত্মক অভিযোগও তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্ত নতুন পিটিশনগুলির ওপর বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
চলেছে ৭ রাউন্ড পেলেট গান, সিজেপির সংসদ অভিযানে জখম ৫: রিপোর্টে চাঞ্চল্য





