অসাধু চক্র ভেঙে ট্রাক চালকদের সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ করে ইসলামপুরে বড় পদক্ষেপ পুলিশমন্ত্রীর

ইসলামপুর: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত (Islampur)। ট্রাক চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে ইসলামপুর পুলিশ জেলার ডালখোলা…

islampur-truck-extortion-crackdown

ইসলামপুর: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত (Islampur)। ট্রাক চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে ইসলামপুর পুলিশ জেলার ডালখোলা ও চোপড়া এলাকায় বড় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। জাতীয় সড়ক ১২-এর ওপর এক অসাধু চক্র ট্রাক চালকদের কাছ থেকে রেডিয়াম নম্বর প্লেট ও অন্যান্য পরিষেবার নামে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা করে আদায় করছিল।

কিছু অসৎ পুলিশ কর্মীর যোগসাজশে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে একটি পয়সাও অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না।”

Advertisements

আরও দেখুনঃ বিধানসভা থেকে তৃণমূল আমলের বিতর্কিত পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড মুখ্যমন্ত্রীর

পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। অভিযানে প্রতারণা ও জোরপূর্বক টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতি ও চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৩ জন পুলিশ কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত ও ডিমোবিলাইজ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। কোনো অসাধু কর্মকর্তা বা বাইরের চক্র যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের সব পুলিশ সুপারকে জাতীয় সড়কগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুনঃ বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব থেকে পঞ্চায়েত প্রধান-পৌরসভার চেয়ারম্যানদের সরালেন শুভেন্দু

যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।স্থানীয় ট্রাক চালকরা এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান আগে দেখা যায়নি।”পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকলেও তা খতিয়ে দেখা হবে।