মাত্র ৪৮ ঘন্টাতেই বড় বড় সিদ্ধান্ত! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও স্পটলাইটে শুধুই মোদী

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে পেপার লিক কেলেঙ্কারির প্রবল সমালোচনার মুখে মোদী সরকার। (education reforms)এই আবহেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে সাড়া ফেলে…

modi-education-reforms-48-hours

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে পেপার লিক কেলেঙ্কারির প্রবল সমালোচনার মুখে মোদী সরকার। (education reforms)এই আবহেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সরকার যে ছয়টি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এখন দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের রাজনৈতিক এবিং সামাজিক মহলের একাংশের মতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিলেও দিনের শেষে সমস্ত স্পটলাইট প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপরেই।

প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে এই রদবদল সরকারের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে।সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে নতুন অ্যান্টি-পেপার লিক আইন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ প্রধানের পদত্যাগের পর কাটল জট, নিট কাণ্ডে এ বার বাকি দাবিগুলি কী কী?

সরকার একটি কঠিন আইন প্রস্তুত করেছে, যা শীঘ্রই সংসদে পেশ করা হবে। এই আইনে পেপার লিকের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি)-র ৪৭ জন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

ছাত্রদের দাবি মেনে সরকার আরও দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, পেপার লিক মামলাগুলোর জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নিট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের বিস্তারিত নিয়ম শীঘ্রই জানানো হবে।এই ঘোষণাগুলোর পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার ছাত্রদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না।” বিরোধী দলগুলো অবশ্য বলছে, “এতদিন যা হওয়ার হয়েছে। এখন চাপে পড়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

আরও দেখুনঃ ধর্মেন্দ্রর ইস্তফাতেও মিলল না স্বস্তি! ফের রণক্ষেত্র যন্তরমন্তর

তবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।বিশেষ করে নিট পরীক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণের ঘোষণা অনেক পরিবারের কাছে বড় সান্ত্বনা। এক অভিভাবক বলেন, “টাকা দিয়ে ছেলে ফিরে আসবে না, কিন্তু সরকার যে দায় স্বীকার করেছে, এটাই অনেক।”

অন্যদিকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্তে অনেকে আশা করছেন, দোষীরা দ্রুত শাস্তি পাবেন।শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি শুরু মাত্র। এনটিএ-র পুনর্গঠন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এখন জরুরি। সরকারও জানিয়েছে, এই সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আরও দেখুনঃ BREAKING: আরশোলাদের আন্দোলনে নতমস্তক! ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান