ঢাকা: ঢাকায় বাহুদা রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এক অশুভ চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে গেছে। (Rath Yatra)শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দুটি তাজা ইমপ্রোভাইজড বোমা উদ্ধার হয়। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি, কেউ হতাহতও হননি।
রথযাত্রার শোভাযাত্রা মতিঝিল এলাকা দিয়ে যাওয়ার পরপরই এক পুলিশ সদস্য সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়, জনসাধারণকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট (সিটিটিসি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে। প্রতিটি বোমায় ছিল প্রায় ১-১.৫ কেজি সালফার এবং লোহার বল, যা শার্পনেল হিসেবে কাজ করতে পারত।
আরও দেখুনঃ হাসিনা ভারতে! তবুও চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে মোদীসরকার
পুলিশ জানিয়েছে, এগুলো সম্ভবত রথযাত্রার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল। তদন্ত চলছে, কারা এর পেছনে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এই ঘটনা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একদিকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) আয়োজিত উল্টো রথযাত্রা স্বামীবাগ থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল, শাপলা চত্বর, প্রেস ক্লাব হয়ে বিভিন্ন মন্দির ঘুরে শেষ হয়।
হাজারো ভক্ত ঢোল-কাঁসর বাজিয়ে, হরে কৃষ্ণ নাম গেয়ে রথ টেনেছেন। অনেকে বলছেন, “রথ চলে যাওয়ার পরই বোমা পাওয়া গেল। প্রভু জগন্নাথ সবাইকে বাঁচিয়েছেন।” ভক্তদের মধ্যে এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে যে, এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ।বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব পালনের সময় নিরাপত্তার উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
আরও দেখুনঃ খুলে গেল সোনম-আরশোলাদের মুখোশ! তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনকে চিঠি লিখে সমর্থন জামাতের
বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন উৎসব ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো বারবার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার পর অনেকে বলছেন, উৎসবের সময় বিশেষ সতর্কতা আরও বাড়ানো দরকার। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
ইসকনসহ হিন্দু নেতারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। একজন ভক্ত বলেন, “আমরা ভয়ে নয়, বিশ্বাস নিয়ে উৎসব করছি। জগন্নাথ সব দেখছেন।” অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারি দায়িত্বশীল মহল জানিয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উৎসবগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।
আরও দেখুনঃ গাইবান্ধায় রাম মূর্তি বানানো হরিদাসের মুক্তির দাবিতে ঢাকার রাস্তায় প্রতিবাদ হিন্দুদের




