ঢাকা: বাংলাদেশের একজন ইসলামী মৌলানা আব্দুল কুদ্দুস ফারুকির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠেছে (Kolkata attack)। এই মন্তব্যে তিনি কলকাতা শহর নিয়ে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, “কলকাতা দখল করতে আমাদের ৭০টা ফাইটার জেটের দরকার নেই। এমনকি ৭টা জেটও লাগবে না। বরং আমি ২০০ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী পাঠাব। ভারতে তো শুধু মূর্তিপূজকরা থাকে, তারা রক্ত দেখলে ভয় পায়।”
এই বক্তব্যে তিনি হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে তালিবানের আত্মঘাতী হামলার কৌশলকে সফল বলে উল্লেখ করেছেন, যা আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো সুপারপাওয়ারদের পরাজিত করেছে বলে দাবি করেন।এই ভিডিওটি মার্চ ২০২৫-এর দিকে হাসান মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে এবং এখন লক্ষাধিক ভিউ পেয়েছে। এতে ফারুকি বলেন, “যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অনুমতি দেয়, তাহলে আমি কলকাতা দখলের পরিকল্পনা করব।
আরও দেখুন: হাফিজ সাঈদকে তুলে আনতে হবে! মোদীর কাছে আর্জি ওআইসির
কী ব্যবহার করব? আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। আমি কলকাতায় আত্মঘাতীদের পাঠাব।” তিনি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “প্রথমে মরো, তারপর কাফিরদের মারো” এটাই তালিবানের সফল কৌশল। এছাড়া হিন্দুদের শারীরিকভাবে দুর্বল, তাদের খাদ্যাভ্যাস নোংরা (মূত্র, গোবর, কচ্ছপ ইত্যাদি) বলে অপমান করেন এবং বলেন, “আমি জানি তারা রক্ত দেখলে ভয় পায়।”
এই হুমকি বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে চলা মৌলবাদী উত্থানের একটা উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বেড়েছে, মন্দির-বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের খোলামেলা হুমকি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এটাকে গুরুতর হুমকি বলে মনে করছেন, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
বাংলাদেশ সরকার বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে এই মৌলানা জামায়াত-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত নন তিনি একজন স্বাধীন ইসলামী বক্তা হিসেবে পরিচিত। তবু এই বক্তব্য জামায়াতের মতো দলগুলোর উগ্র অংশের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে বলে অনেকে মনে করছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় এখনও কোনো মন্তব্য করেনি, কিন্তু সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারত বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আর বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ বলে আক্রমণ করে। এই হুমকি সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। হিন্দু অধিকার সংগঠনগুলো, যেমন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’, এই ভিডিও শেয়ার করে কড়া নিন্দা করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।




















