নয়াদিল্লি: পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। (Joban Billa)পঞ্জাব পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জোবঞ্জিত সিং ওরফে জোবান বিল্লাকে সফলভাবে ভারতে ফিরিয়ে এনেছে।
‘অপারেশন নোম্যাড হান্ট’ নামে পরিচিত এই দীর্ঘ ছয় মাসের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা অভিযানের ফল হিসেবে এই বড় সাফল্য এসেছে। পাঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।জোবান বিল্লা পাঞ্জাবের জন্য এক দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা। রাজ্যে নথিভুক্ত চারটি খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act)-এর একাধিক গুরুতর মামলায় সে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ান্টেড ছিল।
আরও দেখুনঃ ধর্মীয় পোশাক ছিঁড়েছে আরশোলারা! নেতা দীপকেকে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারি শিখ সম্প্রদায়ের
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অপরাধ জগতে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে সে পাঞ্জাবের শান্তি বিনষ্টকারীদের তালিকায় শীর্ষে ছিল। গ্রেফতার এড়াতে সে একের পর এক দেশ বদল করছিল। ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আস্তানা গেড়েও শেষ পর্যন্ত জাকার্তায় আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের অবিরাম চেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় তার সেই ‘নোম্যাড’ জীবনের অবসান ঘটিয়েছে।
‘অপারেশন নোম্যাড হান্ট’ শুরু হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। পাঞ্জাবের AGTF-এর অফিসাররা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে মিলে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও ইন্টারপোলের সহায়তায় জোবান বিল্লার গতিবিধি ট্র্যাক করতে থাকেন। জাকার্তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে আটক করা হয় এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
আরও দেখুনঃ ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই! সূত্রের খবরে উস্কাল বিতর্ক
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “এটি শুধু একজন অপরাধীকে ধরা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে অপরাধীদের নাগাল পাওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”জোবান বিল্লাকে পাঞ্জাবে ফিরিয়ে আনার পর তাকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাঞ্জাব DGP এই অভিযানের সাফল্যকে পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, পাঞ্জাবে অপরাধ করে কেউ বিদেশে পালিয়ে গিয়ে নিরাপদ থাকতে পারবে না। যত দূরেই লুকাক, আমরা তাদের খুঁজে বের করব।”এই ঘটনা পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।
আরও দেখুনঃ ২৬ জুলাই যন্তরমন্তরে বিক্ষোভকারীদের পিঠ লাল করে দেওয়ার হুমকি হিন্দু রক্ষা দলের
যারা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংস্টারদের আতঙ্কে ভুগছিলেন, তাদের কাছে এটি একটি বড় সান্ত্বনা। স্থানীয় বাসিন্দা রাম সিং বলেন, “এরা তো আমাদের ছেলেদের নষ্ট করছিল, মাদক ছড়াচ্ছিল। পুলিশ এবার ভালো কাজ করেছে।” অন্যদিকে আইনজীবী মহলেও এই সফল প্রত্যর্পণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।





