বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুতায়িত বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের স্বীকৃতি পেল ভারতীয় রেল

নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুতায়িত বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের (Indian Railways)স্বীকৃতি পেয়েছে। ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের ৯৯.৬ শতাংশ এখন বিদ্যুৎচালিত হয়ে চলছে। এই অর্জন ভারতের পরিকাঠামো…

indian-railways-electrification

নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুতায়িত বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের (Indian Railways)স্বীকৃতি পেয়েছে। ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের ৯৯.৬ শতাংশ এখন বিদ্যুৎচালিত হয়ে চলছে। এই অর্জন ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যেখানে বিদ্যুতায়নের হার অনেক কম ছিল, সেখানে আজ প্রায় পুরো রেল নেটওয়ার্ক বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় রেলওয়ের এই সাফল্য পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এক বড় পদক্ষেপ। ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে কার্বন নির্গমন অনেক কমেছে। এতে শুধু পরিবেশই রক্ষা পাচ্ছে না, জ্বালানি খরচও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতায়নের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, যা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা-কনস্টেবল খুনে গ্রেফতার ৫০০ র বেশি

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রেলওয়েকে আধুনিক ও সবুজ করার যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। আজ ভারতের ব্রডগেজ লাইনের প্রায় পুরোটাই বিদ্যুতায়িত হওয়ায় ট্রেনের গতি বেড়েছে, নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হয়েছে।

সাধারণ যাত্রীদের জীবনে এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আগে ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়া ও শব্দে যাত্রার অসুবিধা হতো। এখন বিদ্যুৎচালিত ট্রেনগুলো নীরবে ও দ্রুত চলে। দূরপাল্লার ট্রেনের সময়সূচি আরও নির্ভুল হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে খরচ কমায় তাদের ব্যবসা লাভবান হচ্ছে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিতে পারছেন।পরিবেশবিদরা এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন।

একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বলেন, “রেলওয়ের বিদ্যুতায়ন ভারতের নেট জিরো লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু রেলের জন্য নয়, গোটা পরিবহন খাতের জন্য একটি উদাহরণ।” বিদ্যুৎচালিত ট্রেনে কম খরচে বেশি যাত্রী ও পণ্য বহন করা সম্ভব হওয়ায় অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আরও দেখুনঃ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে জেলের মেয়াদ ও জরিমানা বাড়াতে তৎপর কেন্দ্র

ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, প্রথম স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে রেলওয়ে। বাকি ০.৪ শতাংশ লাইনও শীঘ্রই বিদ্যুতায়িত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে উচ্চগতির রেল করিডর, সোলার পাওয়ারের ব্যবহার এবং আরও আধুনিক সিগনালিং ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রেলওয়ে বিশ্বের সেরা রেল নেটওয়ার্ক হয়ে উঠবে।