‘ওয়াংচুকের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি হচ্ছে!’ কংগ্রেসকে নিশানা সমাজকর্মীর স্ত্রীর

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের কাছে কংগ্রেসের আচমকা বিক্ষোভ এবং রাহুল গান্ধীর আটকের ঘটনা নিয়ে এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি…

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের কাছে কংগ্রেসের আচমকা বিক্ষোভ এবং রাহুল গান্ধীর আটকের ঘটনা নিয়ে এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমো। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সোনমের অনশন আন্দোলন এবং ছাত্র বিক্ষোভে রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলে তিনি সরাসরি কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ সম্পূর্ণ ‘অঙ্কিত’ বা আন্তরিকতাহীন। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সোনমের সুনাম এবং এই আন্দোলনকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলেও তোপ দেগেছেন তিনি।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ নিয়ে কঠোর বার্তা

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার ৭, লোক কল্যাণ মার্গের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী সহ একাধিক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে অক্সফোর্ডের শেভিং স্কলার তথা শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অঙ্গমো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই প্রতিবাদ আন্তরিকতাহীন। আজ আর দেশের জনসাধারণকে বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক নতুন ও সচেতন ভারত। যাঁরা এই ভণ্ডামি করছেন, দেশের যুবসমাজ তাঁদের একসময়ে প্রত্যাখ্যান করবে।” রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ ছিল, ক্যামেরার সামনে নাটকীয় বিক্ষোভ না দেখিয়ে সরাসরি যন্তর মন্তরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।

Advertisements

আন্দোলনের অরাজনৈতিক চরিত্র

গোটা ছাত্র আন্দোলনটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং অরাজনৈতিক, এমনটাই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন গীতাঞ্জলি। তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে কোনো সরকার বা বিরোধী দল নেই। আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ শিক্ষাকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করুক।” যাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে এই আন্দোলনে ফায়দা তুলতে আসবেন, তাঁরা সফল হবেন না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য ও নতুন দাবি

গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই সোনম ওয়াংচুকের পাশে ছায়ার মতো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। প্রথমে সাফদরজং হাসপাতালে রাখা হলেও, পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতিতে তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ২৬ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যেই বুধবার একটি চিঠি প্রকাশ করে নিজের দাবির কথা জানিয়েছেন সোনম। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের যে মূল দাবিটি এতদিন সামনে আসছিল, সদ্য প্রকাশিত চিঠিতে তা কিছুটা নরম করা হয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে হাসপাতালের সাক্ষাতের পর সোনম কেবল দাবি করেছেন যে, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে অংশ নেওয়া কোনো ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে যেন কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত ডিএ মামলার শুনানি, অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি কর্মচারীরা

‘চিকেনস নেক’ থেকে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’! শিলিগুড়ি করিডরের সুরক্ষায় বদল আনল ভারত