বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শুরু হতে চলেছে কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games)। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা ভারতের কাছে শুধু পদক জয়ের লড়াই নয়, বরং আগামী দিনের আরও বড় লক্ষ্য পূরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ, ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক ভারত। আহমেদাবাদে সেই আসর সফলভাবে আয়োজনের পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের শক্তি আরও প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দেশ।
এবারের গেমসকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতিতে বড়সড় বিনিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। সরকারি সূত্রের খবর, বিভিন্ন শিবির, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, বিদেশ সফর, কোচিং এবং বৈজ্ঞানিক সহায়তা মিলিয়ে মোট ৫৩ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অ্যাথলেটিক্স এবং বক্সিংয়ের জন্য। এই দুই খেলাতেই ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছে ক্রীড়ামহল।
দলবদলের বাজারে বড় চমক! ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে পুরনো ডেরা ওড়িশাতে নন্দকুমার
তবে এবারের কমনওয়েলথ গেমস আগের আসরের তুলনায় অনেক ছোট পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২২ সালে বার্মিংহাম গেমসে যেখানে ১৯টি খেলা ছিল, সেখানে গ্লাসগোয় থাকছে মাত্র ১০টি ইভেন্ট। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের মোট পদক সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, শুটিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, ক্রিকেট এবং হকির মতো খেলাগুলি এবার নেই। অতীতে এই খেলাগুলিতেই ভারত নিয়মিতভাবে বহু পদক জিতেছে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইভেন্ট কমে যাওয়ার প্রভাব ভারতের সামগ্রিক পদক তালিকায় পড়তে পারে।
তবে ভারতীয় শিবির এই আশঙ্কাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের শেফ দ্য মিশন রোহিত রাজপালের মতে, প্রতিযোগিতার পরিধি ছোট হলেও ভারতের দলে অভিজ্ঞ ও সফল ক্রীড়াবিদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি। তাঁর বিশ্বাস, ইভেন্ট কমলেও ভারত পদক জয়ের ক্ষেত্রে হতাশ করবে না। বরং যে খেলাগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে, সেখানেই আরও ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ট্রফি খরা কাটাতে ‘ভিশন ২০২৮’ শিবিরে তরুণদের পাশে সৌরভ, বাংলার ক্রিকেটে নতুন রোডম্যাপ
বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ২২টি সোনাসহ মোট ৬১টি পদক জিতে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এবার অন্যতম লক্ষ্য। গ্লাসগোয় ভারত ১২৬ সদস্যের দল পাঠিয়েছে। দলে রয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক তারকা এবং অলিম্পিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ।
অলিম্পিকের সোনাজয়ী জ্যাভলিন তারকা নীরজ চোপড়া ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা। পাশাপাশি রয়েছেন অলিম্পিকে রুপোজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু এবং বক্সিংয়ে অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই। এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে মুরলী শ্রীশঙ্কর, তেজস্বীন শঙ্কর, তেজিন্দর পাল সিং তুর, অনিমেষ কুজুর, গুরবিন্দর সিং এবং পারুল চৌধুরির মতো অ্যাথলিটদের কাছ থেকেও পদকের প্রত্যাশা রয়েছে।
বাংলার পক্ষ থেকেও নজর থাকবে দুই জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং প্রতিষ্ঠা সামন্তের দিকে। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারলে তাঁরাও পদকের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় আশা এবার অ্যাথলেটিক্স। ৩২ সদস্যের শক্তিশালী অ্যাথলেটিক্স দল নিয়ে গ্লাসগোয় নামছে ভারত। শেফ দ্য মিশন রোহিত রাজপাল জানিয়েছেন, তাঁদের বিশ্বাস অ্যাথলেটিক্স থেকেই আগের চেয়ে বেশি পদক আসবে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভারতীয় অ্যাথলিটদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে।





