কলকাতা: অনুপ্রবেশ রুখতে এবার বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের। (Sundarbans)ভারত সরকার এবার সুন্দরবনের চ্যালেঞ্জিং এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তের ৯০ কিলোমিটার অংশে প্রথমবারের মতো বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় ১২ ফুট উঁচু এই বেড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। অনুপ্রবেশ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা রোধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই জটিল ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে কোনো বেড়া নেই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নদীভিত্তিক অংশে ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্টের ওপর নির্ভর করে। এই নতুন উদ্যোগকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বন, জটিল নদীনালা ও জোয়ার-ভাটার কারণে এতদিন এলাকাটি সীমান্তরক্ষার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।
আরও দেখুনঃ সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর: রাজ্যে গঠিত হল সপ্তম পে কমিশন
অনুপ্রবেশকারীরা প্রায়ই এই প্রাকৃতিক সুবিধা নিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করত। বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেড়া শুধু অনুপ্রবেশ রোধ করবে না, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। বেড়ার নকশায় পরিবেশের কথা মাথায় রাখা হয়েছে যাতে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর চলাচল ব্যাহত না হয়।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই প্রকল্প দ্রুত এগোচ্ছে।
১২ ফুট উঁচু বেড়ার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি, নাইট ভিশন ক্যামেরা এবং সেন্সর বসানো হবে। ফলে রাতের অন্ধকারেও সীমান্ত নজরদারি জোরদার হবে। বিএসএফের ফ্লোটিং আউটপোস্টগুলোকে আরও আধুনিক করা হচ্ছে। নৌকা ও স্পিডবোটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ রাজধানী উত্তাল হবে ১৭ তেই খবর দিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস! ফাঁস হল আরশোলাদের আরও কীর্তি
অনেকে বলছেন, এই বেড়া তাঁদের নিরাপত্তা বাড়াবে। সুন্দরবনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ, গরু পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের সমস্যায় ভুগছেন। নতুন বেড়া তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনতে পারে। তবে কিছু মৎস্যজীবী ও বনজীবী আশঙ্কা করছেন যে, বেড়ার কারণে তাঁদের জীবিকা প্রভাবিত হতে পারে। সরকার তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে।বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।




