আজই মির্জাপুর থেকে নতুন দলের ঘোষণা হুমায়ুনের, কী নাম রাখলেন?

কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক…

কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সোমবার, ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের মির্জাপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা। দলটির নাম হবে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’, এমনটাই সূত্রের খবর।

Advertisements

ভোটের আগে নয়া দলের ট্রেন্ড

বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন দলের আবির্ভাব নতুন নয়। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), যা এক আসনে জয়ও ছিনিয়ে নেয়। সেই ধারাবাহিকতাতেই ২০২৬-এর আগে হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

   

সূত্রের খবর, সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ মির্জাপুর মোড়ে একটি জনসভা থেকে দলের নাম ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হতে পারে। দলের সাংগঠনিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও তিনি এদিন বক্তব্য রাখতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

প্রতীক নিয়েও ভাবনাচিন্তা

নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন হুমায়ুন কবীর। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর সময় তাঁর প্রতীক ছিল ‘টেবিল’। এবার নতুন দলের জন্যও সেই প্রতীকই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রথম পছন্দ হিসেবে চাওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। টেবিল প্রতীক না মিললে দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ‘জোড়া গোলাপ’ প্রতীকের কথাও ভাবা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—এই দুই দলের বিরোধী যে কোনও শক্তির জন্য তাঁর দলের দরজা খোলা থাকবে। তাঁর দাবি, দল ঘোষণার দিন বিপুল জনসমাগম হবে। মূল মঞ্চে প্রায় ৯০ জন থাকবেন, উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের ভিআইপি ব্যক্তিরাও। রাজ্য জুড়ে কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

৯০টি আসনে জয়ের দাবি

দাবির সুর আরও চড়িয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয় পাবে তাঁর দল এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ‘নির্ণায়ক শক্তি’ হিসেবে উঠে আসবে জনতা উন্নয়ন পার্টি। তবে এই দাবি বাস্তবের মাটিতে কতটা দাঁড়াবে, তা সময়ই বলবে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শাসক দলের অন্দরে এই উদ্যোগকে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ বলেই দেখছেন অনেকেই। তবে ভোটের আগে নতুন দল, নতুন প্রতীক ও নতুন দাবিদাওয়ার এই রাজনীতিই যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির হিসেব বদলে দিতে পারে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Advertisements