নয়াদিল্লি: রাজধানীর রাস্তায় এখনও চলছে তথাকথিত ছাত্র আন্দোলন। (US Embassy)এই তথাকথিত আন্দোলনকে ঘিরে ছড়িয়েছে হিংসা। পুলিশ কড়া পদক্ষেপে তা দমন করেছে। এই আন্দোলন নিয়ে উঠে এসেছে বিতর্ক ও। তবে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে যা এই ঘটনায় এনেছে নতুন মোড়। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে রাজধানীর রাস্তায় যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তার চারদিন আগেই মার্কিন দূতাবাস একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল।
১৭ জুলাই তারিখের ওই লিক হয়ে যাওয়া অ্যালার্টে আমেরিকান নাগরিকদের দিল্লির সমাবেশ ও জমায়েত থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। আর ২০ জুলাই সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-এর ‘চলো সংসদ’ মার্চ ঘিরে দেখা গেল তীব্র সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং উত্তেজনা। এই সময়ের ব্যবধান ও সতর্কতার প্রকৃতি নিয়ে ফের উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
আরও দেখুনঃ নেপালের মুদ্রা থেকে সরল লিপুলেখ-কালাপানির ছবি! কড়া জবাব ভারতের
দিল্লির রাস্তায় যে অরাজকতা দেখা গেল, তার পেছনে যে কোনো বিদেশি শক্তির হাত আছে এখন এই সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার বাংলাদেশের চরমপন্থী সংগঠন জামাত চিঠি লিখে এই হিংসাকে সমর্থন করেছে। এই আবহে মার্কিন দূতাবাসের এই অ্যালার্টটি যে সাধারণ কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা ছিল না তা বলাই বাহুল্য।
তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে দিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশ হতে পারে এবং তা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ঠিক চারদিন পর যখন প্রতিবাদকারীরা সংসদের দিকে এগোতে চাইলেন, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তলোয়ার হাতে নিহঙ্গদের উপস্থিতি, পুলিশের ওপর হামলা এবং হত্যার হুমকির মতো ঘটনা সামনে আসে। এত আগে থেকে কীভাবে বিদেশি দূতাবাস এমন নির্দিষ্ট সতর্কতা জারি করল?
এই প্রশ্ন এখন অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি দূতাবাসগুলো সাধারণত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আগাম তথ্য পায়। কিন্তু এতটা নির্দিষ্ট এবং সময়োপযোগী সতর্কতা সন্দেহের উদ্রেক করে। দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশের মনে এখন আর কোনো সন্দেহই নেই যে এর পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির পরিকল্পিত রয়েছে।
আরও দেখুনঃ অনন্তনাগে পুলিশের উপর ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা! শহীদ এক পুলিশকর্মী
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অজুহাত করে ভারতের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করে দেশকে দুর্বল করার চেষ্টাতেই এই পরিকল্পনা বলে ধারণা তাদের। বিশেষ করে যখন শিক্ষা ব্যবস্থার বৈধ দাবি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন হঠাৎ হিংসাত্মক রূপ নিল, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে কোনো বহিরাগত এজেন্সি এতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।সিজেপি আন্দোলন শুরু হয়েছিল এনইইটি-সহ শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে।
ছাত্র-যুবকদের ক্ষোভ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু আন্দোলনের মধ্যে যেভাবে সশস্ত্র উপাদান ঢুকে পড়ল এবং পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হল, তা সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের চরিত্রের সঙ্গে মেলে না। অনেকে মনে করেন, এর পেছনে রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক এজেন্ডা কাজ করছে। চিন বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এই বিষয়ে আমেরিকার মদতকেও সন্দেহের উর্ধে রাখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
আরও দেখুনঃ ইডি দফতরে হাজিরা মদন-পুত্র শুভরূপের, তলব স্ত্রী ও অন্য পুত্রকেও





