ভুয়ো অ্যাপে ৬৪ কোটির সাইবার ফ্রড! পুলিশের জালে স্কুল ড্রপআউট মাস্টারমাইন্ড

সুরাট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার করে দেশজুড়ে কোটি কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতি চালানোর অভিযোগে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণকে গ্রেপ্তার করল সুরাট…

সুরাট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার করে দেশজুড়ে কোটি কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতি চালানোর অভিযোগে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণকে গ্রেপ্তার করল সুরাট সিটি সাইবার ক্রাইম সেল। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের একটি হোটেল থেকে রোহিত বীরেন্দ্রসিংহ শাক্য (Rohit Virendrasinh Shakya) নামের ওই তরুণকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, মাত্র একাদশ শ্রেণীতে পড়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দিলেও সে ১৬ বছর বয়সেই কোডিংয়ে দারুণ পারদর্শী হয়ে ওঠে এবং একটি বিশাল সাইবার জালিয়াতির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।

কীভাবে চলত এই জালিয়াতি?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের নকল মোবাইল অ্যাপ (Malicious APK) তৈরি করত। ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো সাইবার অপরাধের কুখ্যাত কেন্দ্রগুলিতে সক্রিয় গ্যাংগুলির কাছে এই অ্যাপগুলি সরবরাহ করত সে।

Advertisements

এই জালিয়াতির জন্য সে একটি সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করেছিল, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকার বিনিময়ে সাইবার অপরাধীদের কাছে কাস্টমাইজড মেলওয়্যার বা ক্ষতিকর অ্যাপ বিক্রি করত। মূলত দুই ধরণের অ্যাপ তৈরি করেছিল সে—
১. ‘ভিকটিম অ্যাপ’: যা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে নিজের ফোনে ইনস্টল করতেন।
২. ‘অ্যাডমিন অ্যাপ’: যার মাধ্যমে দূর থেকেই প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ওটিপি (OTP), ব্যাংকিং শংসাপত্র (Credentials) এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য রিয়েল-টাইমে হাতিয়ে নিত।

কোন কোন সংস্থাকে নকল করা হত?

তদন্তে জানা গেছে, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB), অ্যাক্সিস ব্যাংক, ইউকো ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, বিগবাস্কেট, আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো নামী ব্যাংকিং ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি [Aadhaar Redacted] পরিষেবা, পিএম কিষাণ (PM Kisan) এবং আরটিও চালান (RTO challan) পেমেন্ট পোর্টালের মতো সরকারি সেবারও ভুয়ো অ্যাপ তৈরি করেছিল সে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি হয়েছে ভুয়ো আরটিও চালান অ্যাপের মাধ্যমে, এরপরেই রয়েছে এসবিআই ও পিএনবির নকল অ্যাপ।

যেভাবে ফাঁস হয় পুরো চক্র

চলতি বছরের মে মাসে সুরাটের এক বাসিন্দা ৫ লক্ষ টাকা সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির কাছে ‘PNB One.apk’ নামের একটি ভুয়ো ফাইল আসে, যা আসল ব্যাংক অ্যাপ ভেবে তিনি ইনস্টল করার পরেই তাঁর ফোন হ্যাক হয়ে যায় এবং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়। এরপর তিনি সাইবার হেল্পলাইনে (১৯৩০) অভিযোগ জানালে সুরাট সাইবার ক্রাইম বিভাগ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশের সাইবার ফরেনসিক দল তদন্ত করে দেখে যে, অভিযুক্ত রোহিত মোট ১২১টি ক্ষতিকর এপিকে (APK) অ্যাপ তৈরি করেছিল, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২১,৬৭২টি মোবাইল ফোনে ইনস্টল করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২,৯২৮টি ডিভাইস সম্পূর্ণভাবে হ্যাক হয়ে যায় এবং ৫৪,০৯৪টি প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৬৪ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

বর্তমানে ধৃত তরুণের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ বাজেটাপ্ত করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং দেশের অন্য কোনো সাইবার সিন্ডিকেট তার এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরশোলার দৌরাত্বে কেন এত আগ্রহ? ডিপ স্টেটের বিদেশি অর্থায়নের টাকা পাওয়া শাবানার চক্রান্ত ফাঁস

আরশোলাদের দৌরাত্বে সশরীরে যোগ দিলেন অরবিন্দ