মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত দিনদিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ২১ জুলাইয়ের ভোরের দিকে নতুন করে মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে উপসাগরীয় অঞ্চল। বাহরাইনে মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর টানা দশ দিনের মতো ইরানে বিমান হানা চালিয়েছে আমেরিকা। সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির মূল ৬টি দিক-
১. বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে তারা সোমবার গভীর রাতে বাহরাইনের রিফায় অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে।
২. টানা দশ দিন ধরে মার্কিন হামলা
তিন মার্কিন সেনা জওয়ানের মৃত্যুর বদলা নিতে ইরানে লাগাতার দশম রাতের মতো সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কুয়েত, জর্ডন ও বাহরাইনে ইরানের হামলার জবাব দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনা।
৩. হরমুজে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলা
এপি-র খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ওমানের উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
৪. বাড়ছেMaritime Security-র উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই জাহাজটি রেডিওর মাধ্যমে অজ্ঞাত কোনো প্রজেক্টাইল বা গোলায় আঘাত হানার খবর দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়ে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটল।
৫. ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ চলছে, দাবি ইরানের
আমেরিকার এই সামরিক অভিযানের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের দেশ এখন “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ”-এর মধ্যে রয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সৌদি আরবের বন্দর অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে।
৬. নিহত মার্কিন সেনা শনাক্ত
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জর্ডনে ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫) এবং টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস (১৯)। নিহত লেফটেন্যান্ট ফিহানকে মরণোত্তর পদোন্নতি এবং ব্রোঞ্জ স্টার সহ একাধিক সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
এই সংঘাতে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে এখন সকলের নজর এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই।
শহীদদের সংখ্যা গোপন করেছে সরকার! কার্গিল বিজয় দিবসের আগে পাকিস্তানে চাঞ্চল্য
‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ কর!’ সৌদিকে অনুমতি দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় নয়া খেল ট্রাম্পের





