কলকাতা: সোমবার বিকেলের প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিষেবা। বিমানবন্দরের সামনে থেকে ভিআইপি রোড, চিনার পার্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যাত্রী, বিমান সংস্থার কর্মী এবং যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ে। এর জেরে একাধিক উড়ান বিলম্বিত ও কয়েকটি বিমান অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিটের মধ্যে খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাঁচটি আগত বিমান অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও পাঁচটি বিমানের অবতরণ বিলম্বিত হয় এবং অন্তত ১৪টি উড়ান নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছাড়ে। যদিও কোনও বিমান বাতিল করা হয়নি।
বৃষ্টির জেরে শুধু রানওয়ে নয়, বিমানবন্দরে যাওয়ার রাস্তাগুলিও কার্যত অচল হয়ে পড়ে। হালদিরাম মোড়, ভিআইপি রোড, চিনার পার্ক এবং বিমানবন্দরের সামনের রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যায়। এমনকি বিমানবন্দরের এয়ারসাইডের কিছু অংশেও জল জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাম্প বসিয়ে জল বের করার কাজ শুরু করে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয় ভিআইপি রোড ও চিনার পার্ক এলাকায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে অসংখ্য গাড়ি। কোমরসমান জল পেরিয়ে ট্রাফিক পুলিশ মাইক হাতে গাড়িচালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে থাকে।
এই দুর্ভোগের শিকার হন বহু বিমানযাত্রী। এক যাত্রী রোশন কুমার, যিনি বেঙ্গালুরু যাচ্ছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান চিনার পার্ক মোড়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে কৈখালি পৌঁছে পরে বাসে করে বিমানবন্দরে যেতে হয়েছে।
সল্টলেকের বাসিন্দা জানান, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরিয়েও ভিআইপি রোডের যানজটে আটকে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর অ্যাপ-ক্যাব চালক তাঁকে হালদিরাম মোড়ের কাছে নামিয়ে দেন। এরপর কোমরসমান জল পেরিয়ে তিনি কৈখালি ট্রাফিক গার্ডে পৌঁছন। সেখান থেকে ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যে একটি অটো ধরে শেষ মুহূর্তে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের বিমানে উঠতে সক্ষম হন।
প্রবল বৃষ্টির জেরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল একযোগে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, জলমগ্ন রাস্তার কারণে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে।





