নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত পুলিশি অভিযানে থেমে গেল (NEET Protest)। NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলছিল এই প্রতিবাদ। সিজেপির প্রধান প্রতিবাদস্থল থেকে দিপকে সহ বেশিরভাগ প্রতিবাদীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আর অরাজকতা চলবে না। এখন শুধুমাত্র গুটিকয়েক প্রতিবাদী সেখানে রয়েছেন।
পরিবেশবিদ সোনাম ওয়াংচুক এবং অভিজিৎ দিপকে ইতিমধ্যে তাঁদের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।যন্তরমন্তর দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদের জায়গা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে বিভিন্ন দাবিতে প্রতিবাদ চলছিল। সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন পরিবেশ, নাগরিক অধিকার এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।
আরও দেখুনঃ শহীদদের সংখ্যা গোপন করেছে সরকার! কার্গিল বিজয় দিবসের আগে পাকিস্তানে চাঞ্চল্য
অভিজিৎ দিপকে-সহ অনেকে অনশনও শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এই প্রতিবাদ এখন অনেকটাই স্তিমিত। দিল্লি পুলিশের অভিযানে প্রতিবাদস্থল খালি করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা এবং যান চলাচলের কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।প্রতিবাদীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ জোর করে তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে।
তাঁরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, প্রতিবাদকারীরা নিয়ম ভঙ্গ করছিলেন এবং এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “আর অরাজকতা চলবে না। আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু তা আইনের সীমার মধ্যে হতে হবে।”
সোনাম ওয়াংচুক এবং অভিজিৎ দিপকে-এর অনশন প্রত্যাহারের খবরটি অনেকের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। সোনাম ওয়াংচুক লাদাখের পরিবেশবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। এখন সরকারের দরজায় দায়িত্ব।” অভিজিৎ দিপকে-ও অনশন শেষ করে জানিয়েছেন যে, আন্দোলনের নতুন রূপ নেবে।
আরও দেখুনঃ সংসদ অভিযানের ডাক ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসে উত্তপ্ত রাজধানী
তবে যন্তরমন্তর থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এই ঘটনা দিল্লিতে প্রতিবাদের জায়গা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যন্তরমন্তর ঐতিহাসিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রতীক। কিন্তু সরকারি দিক থেকে বলা হচ্ছে, এখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া জনজীবনকে ব্যাহত করছে। ট্রাফিক জ্যাম, নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ বলছে, প্রতিবাদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আরও দেখুনঃ ফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে! প্রকাশ্যে গুলি করে খুন স্কুল ছাত্রী





