গাঁজা সেবনের খেসারত! ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত পাক তারকা

ডোপ পরীক্ষায় ক্যানাবিস-জাতীয় উপাদান ধরা পড়ায় পাকিস্তানের অলরাউন্ডার মহম্মদ নওয়াজকে (Mohammad Nawaz )তিন মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করেছে আইসিসি।

mohammad-nawaz-banned-by-icc-for-doping-cannabis-substance

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: বাইশ গজের দুনিয়ায় ফের ডোপিংয়ের কালো ছায়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিষিদ্ধ মাদক নেওয়ার অপরাধে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার মহম্মদ নওয়াজকে (Mohammad Nawaz ) সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তিন মাসের জন্য নির্বাসিত করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। শুক্রবার বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আইসিসি-র নিয়ম ভঙ্গের কথা ইতিমধ্যেই মাথা পেতে নিয়েছেন পাকিস্তানের এই তারকা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ ফেব্রুয়ারি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেদিন নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচের দিনই নিয়মমাফিক নওয়াজের ডোপ পরীক্ষা করা হয়। আইসিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর সংগৃহীত নমুনায় ‘কার্বক্সি টিএইচসি’ নামক একটি বিশেষ উপাদানের উপস্থিতি মিলেছে। সাধারণত ক্যানাবিস বা গাঁজা জাতীয় মাদকদ্রব্যের মধ্যে এই উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে, এই ধরনের পদার্থ স্নায়ুকে উত্তেজিত করে এবং মানুষকে সাময়িকভাবে মত্ত অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়, যা আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী কড়া শাস্তিমূলক অপরাধ।

আইসিসি-র অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম ভঙ্গের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে মেনে নিয়েছেন নওয়াজ। তবে শাস্তির মুখে দাঁড়িয়ে পাক তারকার দাবি, বিশ্বকাপের সময় নয়, বরং টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে তিনি এই জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর সঙ্গে তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স বৃদ্ধি বা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনও সম্পর্ক ছিল না। বিনা বিতর্কে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার কারণেই তাঁর শাস্তির মেয়াদ তুলনামূলকভাবে শিথিল করে তিন মাস নির্ধারণ করেছে আইসিসি।

ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর, চলতি বছরের ১ মে থেকে নওয়াজকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করেছিল বোর্ড। শুক্রবার সেই সাময়িক নির্বাসন তুলে নিয়ে চূড়ান্ত শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি তাঁর নির্বাসনের প্রায় আড়াই মাস কাটিয়ে ফেলেছেন। আইসিসি জানিয়েছে, নওয়াজ যদি নির্দিষ্ট চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন, তবে তাঁর শাস্তির মেয়াদ তিন মাস থেকে কমে এক মাস করা হবে। সেদিক থেকে দেখলে খুব দ্রুতই মাঠে ফেরার ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন তিনি। ফুটবল বা অ্যাথলেটিক্সের পর ক্রিকেটেও ডোপিংয়ের এই অনুপ্রবেশ ক্রীড়াবিশ্বের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় চিন্তার কারণ।