গুরুগ্রাম: হরিয়ানার আর্থিক রাজধানী গুরুগ্রাম (Gurugram)থেকে ১৩ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযানকে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সফল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের ওপর নজরদারি চলছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই ১৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে ভারতে থাকার কোনো বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট বা অন্য কোনো আইনি অনুমতিপত্র ছিল না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, তারা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারতে এসেছিলেন এবং গুরুগ্রামে বিভিন্ন ছোট ছোট কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে বোধোদয়! ভারত থেকে চুরি করা শিল্পকর্ম ফেরাবে অস্ট্রেলিয়া
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন নির্মাণকাজের সাইটে, কেউ কেউ দোকানে সহায়ক হিসেবে এবং কেউ কেউ অন্যান্য ছোটখাটো কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে গুরুগ্রামের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় থাকতেন। পুলিশের অভিযানের পর তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ অনুসারে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।গুরুগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই খবর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, “অবৈধভাবে যারা এখানে থাকেন, তাদের কারণে স্থানীয় চাকরি, বাসস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর চাপ পড়ে।” বিশেষ করে নির্মাণ শিল্প ও ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এই ধরনের অভিযান যেন নিরীহ মানুষের হয়রানির কারণ না হয়।
হরিয়ানা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুগ্রামসহ এনসিআর অঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, “আমরা শুধু অবৈধ প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছি না, তাদের নেটওয়ার্কও ভাঙার চেষ্টা করছি।
যারা দালালচক্রের মাধ্যমে মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করায়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নিয়মিত চেষ্টা করলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুরুগ্রামের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ এলাকায়ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
আরও দেখুনঃ





