Rohit Sharma: ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক দেশের হয়ে খেলার পর কি এবার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানাতে চলেছেন ভারতের অধিনায়ক? বিভিন্ন মহলে এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমনও দাবি করা হচ্ছে যে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসে অনুষ্ঠিত হতে চলা তৃতীয় ওয়ানডেই নাকি হতে পারে ভারতের হয়ে রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। তাই সবকিছুই আপাতত জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের হার সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল ভারতের সামনে। কিন্তু ব্যাটিং বিভাগ প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দলকে ৪ উইকেটের পরাজয় মেনে নিতে হয়। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ শীতাংশু কোটাককে স্বাভাবিকভাবেই রোহিত শর্মার ফর্ম এবং মানসিক অবস্থার বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
কোটাক অবশ্য পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, রোহিত কোনও চাপের মধ্যে নেই। তাঁর মতে, এত অভিজ্ঞ এবং সফল একজন ক্রিকেটার চাপ সামলাতে জানেন। তিনি বলেন, রোহিত এমন একজন ব্যাটার, যিনি নিজের খেলায় বিশ্বাস রাখেন এবং বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা তাঁর পারফরম্যান্সে সহজে প্রভাব ফেলতে পারে না। প্রথম দুই ম্যাচে বড় রান না এলেও তিনি আশাবাদী, লর্ডসে সবাই আবার পুরনো আগ্রাসী রোহিতকেই দেখতে পাবেন।
ব্যাটিং কোচ আরও বলেন, ক্রিকেটে খারাপ সময় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জীবনেই আসে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকারাও কখনও না কখনও রানহীন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তাই কয়েকটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, রোহিতের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়।
কোটাকের এই মন্তব্য অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। কারণ দলের কোচিং স্টাফ যদি প্রকাশ্যে অধিনায়কের পাশে দাঁড়ান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—রোহিত কি এখনও ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ? তবে বোর্ডের অন্দরমহল থেকে ভিন্ন ধরনের খবর সামনে আসছে।
বোর্ড-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক মণ্ডলী এবং রোহিত শর্মার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতের দল গঠন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নির্বাচকদের লক্ষ্য এখন ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি তরুণ দল তৈরি করা। সেই পরিকল্পনায় যশস্বী জয়সওয়ালের মতো নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে এমনও দাবি করা হচ্ছে যে, নির্বাচকরা রোহিতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁকে রাখা হচ্ছে না। যদিও এই তথ্যের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই সম্ভব নয়।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট রোহিত শর্মার মতো একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখন ভারতীয় ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং অতীতের সাফল্য আজও দলের বড় সম্পদ। অন্যদিকে সময়ের দাবি মেনে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা যায় না।
এখন সবার নজর লর্ডসের দিকে। যদি সত্যিই এই ম্যাচ রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি হয়ে থাকে, তবে সেটি হবে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি আবেগঘন মুহূর্ত। আর যদি না-ও হয়, তবুও তাঁর ব্যাট থেকেই বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় থাকবে কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থক। সময়ই বলে দেবে, রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় কোন পথে এগোয়।





