সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

কলকাতা: দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য অর্থ জোগান এবং (ED)অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার ইডির লখনউ জোনাল অফিস পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি…

ed-west-bengal-raid-cash-gold-seized

কলকাতা: দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য অর্থ জোগান এবং (ED)অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার ইডির লখনউ জোনাল অফিস পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যে একযোগে ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। এই অভিযানের সময় পশ্চিমবঙ্গের কালিকাপুর এলাকার হারোরা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম-এর লাইব্রেরি থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৮০ গ্রাম ওজনের সোনার মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং সোনার মুদ্রার উৎস সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর ১৭ নম্বর ধারায় নগদ অর্থ ও সোনার মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ রথযাত্রায় বড় বিপত্তি: পুরীতে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট ১২০, আতঙ্ক বড় দণ্ডায়

এই অভিযান শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নেই। ইডি দিল্লির বাটলা হাউস ও মদনপুর খাদার, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর, মহারাষ্ট্রের রায়গড় এবং বঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়। গোটা অভিযানে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশেরও সহযোগিতা নেওয়া হয়।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালানো হয়েছে সান শাইন হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, কবিরবাগ মিল্লাত অ্যাকাডেমি, হারোরা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম-সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং তদন্তে নাম উঠে আসা একাধিক ব্যক্তির বাড়ি ও অফিসে।

ইডি জানিয়েছে, এই তদন্তের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)-এর দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে। ওই এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করাতে সাহায্য করছিল। শুধু তাই নয়, তাদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা, বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসের ব্যবস্থা করা এবং একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেই কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।

আরও দেখুনঃ পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, কয়েকটি দাতব্য সংস্থা ও ট্রাস্ট বিদেশি অনুদান (Foreign Contribution) গ্রহণ করে সেই অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মিউল অ্যাকাউন্ট এবং স্তরভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থের একটি অংশ অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাঙ্ক থেকে নগদে তুলে নেওয়া এবং ছোট ছোট অঙ্কে বিভিন্ন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রবণতাও নজরে এসেছে। এই আর্থিক লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও দেখুনঃ ২০২২এ পুতিনের পরমাণু হামলায় হস্তক্ষেপ করে ইউক্রেন বাঁচিয়েছেন মোদী! দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর