কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। (Modi Cabinet) একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফতরে পরিবর্তন, নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং কিছু রাজ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব মোদী মন্ত্রিসভায় মিলতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। (Modi Cabinet) তবে সেই সমস্ত জল্পনায় আপাতত ইতি টানল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, এখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনও রদবদল হচ্ছে না। আপাতত দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করাই বিজেপির প্রধান অগ্রাধিকার।
Read More: স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক রান্নাঘর: সরকারি স্কুলগুলিকে নতুন রূপ দিতে তৎপর সরকার
বুধবার রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। প্রথমে অমিত শাহের বাসভবনে বৈঠকে বসেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। পরে গভীর রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ, নীতিন নবীন এবং বিএল সন্তোষ। সূত্রের দাবি, এই বৈঠকেই আপাতত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনও রদবদল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, যখন মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে এত আলোচনা চলছিল, তখন হঠাৎ করে কেন সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হল? এর অন্যতম প্রধান কারণ আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশন। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সংসদ চলাকালীন প্রতিটি মন্ত্রীর উপর নিজের মন্ত্রকের কাজ, নীতি, প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে। বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।
Read More:অভিষেকের জন্যই জেলে যেতে হয়েছে! বিস্ফোরক অনুব্রত, সুর মেলালেন মদন
এই পরিস্থিতিতে অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে কোনও মন্ত্রীর দফতর বদলে দেওয়া হলে, নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ধারণা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। একটি নতুন মন্ত্রকের নীতি, চলমান প্রকল্প, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সংসদে সম্ভাব্য প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত হতে সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন মন্ত্রী সংসদে কার্যকরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তার প্রভাব সংসদের কার্যক্রমেও পড়তে পারে। এই কারণেই আপাতত মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের পরিবর্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।





