কাঠমান্ডু: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এখন উত্তেজনায় ফুঁসছে। (Balen Shah)প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নেতৃত্বে চলা আক্রমণাত্মক অবৈধ বাসস্থান উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে শত শত যুবক রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন “দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো”, “মানবাধিকার মেনে চল”, “অবৈধ গ্রেফতার বন্ধ করো”, “আশ্রয় দাও, উচ্ছেদ নয়”।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।বালেন শাহ, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁর শহর পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন অভিযানের জন্য দেশ-বিদেশে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। কিন্তু এই অভিযানের আড়ালে দরিদ্র মানুষের দুর্দশা যে এত গভীর, তা এখন সামনে এসেছে।
আরও দেখুনঃ রাশিয়ার তেলে শুল্কের খাঁড়া কমল ৫০০ থেকে ১০০ শতাংশে, বড় স্বস্তিতে ভারত-চিন
সরকারি তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ২,৬০০টি পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। অথচ এর মধ্যে মাত্র ৩২৫টি পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।
বালেন শাহের সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঠমান্ডুর নদীর তীর, পার্ক ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্কোয়াটারদের দখল শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছিল। নর্দমা, ময়লা আর অপরাধ বেড়ে গিয়েছিল। তাঁরা মনে করেন, শহর পরিচ্ছন্ন না করলে পর্যটন, বিনিয়োগ ও নাগরিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বালেন শাহ নিজে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা শহরকে বাসযোগ্য করতে চাই।
আরও দেখুনঃ মোদীই নিরাপদ! তাই ইউরেনিয়াম ব্রহ্মহাস্ত্র ভারতেই জানাল অস্ট্রেলিয়া
কিন্তু কাউকে অমানবিকভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।”তবে বাস্তবে বিকল্প আশ্রয়ের সংখ্যা খুবই কম। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের সমালোচনা করে বলছে, “উন্নয়নের নামে মানবিকতা বিসর্জন দেওয়া যায় না।” রাষ্ট্রসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও নেপাল সরকারের কাছে স্বচ্ছ পুনর্বাসন নীতি চেয়েছে।
আরও দেখুনঃ হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে হামলা: নিহত ভারতীয় নাবিক, গুরুতর জখম ৬





