দুর্গাপুরে খালি করা হচ্ছে সরকারি জমি! বুলডোজার চলছে একের পর এক বাম সংগঠনের অফিসে

দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে বড় পদক্ষেপ (Durgapur)নিয়েছে আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ADDA)। অভিযানে একাধিক ক্লাব ও ট্রেড ইউনিয়নের অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া…

durgapur-anti-encroachment-drive

দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে বড় পদক্ষেপ (Durgapur)নিয়েছে আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ADDA)। অভিযানে একাধিক ক্লাব ও ট্রেড ইউনিয়নের অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।এডিডিএ-র অভিযানে করঙ্গপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘যুবশক্তি স্পোর্টিং ক্লাব’ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এছাড়া আইএনটিটিইউসি (INTTUC), সিআইটিইউ (CITU) এবং আইএনটিইউসি (INTEUC)-এর অফিস সহ একটি সিন্ডিকেট অফিসও বুলডোজারের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। অভিযান চলাকালীন নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিল। এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল।

আরও দেখুনঃ প্রধানের ক্ষমতা ছেঁটে সচিবদের হাতে আর্থিক দায়িত্ব: পঞ্চায়েত আইনে আসছে বদল

দীর্ঘদিন ধরে এই জমি দখল করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। এডিডিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এই অভিযান তারই অংশ।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে সরকারি জমি দখল করে ক্লাব বা অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা উচিত নয়।

এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে যেসব সংগঠনের অফিস ভাঙা হয়েছে, তাদের সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এই স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল এবং স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল।ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এই অফিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হঠাৎ করে ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিকল্প জায়গা চেয়েছেন।

আরও দেখুনঃ প্রধানমন্ত্রী আবাসে ১ লক্ষ বাড়ি-একাধিক গবেষণাগারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এডিডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযান শুধু দুর্গাপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান চলবে। শহরের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।দুর্গাপুর একটি শিল্পনগরী। এখানে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও ক্লাবের সক্রিয়তা দীর্ঘদিনের।

অনেক ক্লাব স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাহায্য করে। হঠাৎ এই অভিযানে সেই সব সংগঠনের কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান চললেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হবে না। প্রয়োজনে বৈধ সংগঠনগুলোকে বিকল্প জায়গা বরাদ্দ করা হতে পারে। তবে সরকারি জমির উপর কোনো অবৈধ নির্মাণ মেনে নেওয়া হবে না।

আরও দেখুনঃ ১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা, রবীন্দ্র সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান