কয়লা চুরির অভিযোগে CBI-এর এফআইআর, তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের সংস্থা ও রেলকর্তারা

নাগপুর: কয়লা চুরির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। নাগপুর জেলার ডুমরি খুর্দ রেল সাইডিং থেকে উচ্চমানের কয়লা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের একটি…

cbi-fir-coal-theft-west-bengal-company-secr-railway-officials

নাগপুর: কয়লা চুরির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। নাগপুর জেলার ডুমরি খুর্দ রেল সাইডিং থেকে উচ্চমানের কয়লা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের একটি বেসরকারি সংস্থা এবং দক্ষিণ পূর্ব মধ্য রেলওয়ে (SECR)-এর কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, সংস্থাটি অনুমতি ছাড়াই উন্নত মানের কয়লা সংগ্রহ করে বিক্রি করেছে। এই ঘটনায় ২৯ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের কয়লা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

কী অভিযোগ?

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সংস্থার মালিক অমিত মাইতি। সংস্থাটি ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (WCL)-এর লিজ নেওয়া ডুমরি খুর্দ রেল সাইডিংয়ে খোলা মালবাহী ওয়াগন পরিষ্কার, রেললাইন পরিষ্কার এবং কয়লা হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করত। চুক্তি অনুযায়ী সংস্থাটির শুধুমাত্র প্রত্যাখ্যাত (Rejected) ও বর্জ্য কয়লা সরানোর অনুমতি ছিল। কিন্তু অভিযোগ, কয়েকজন রেল আধিকারিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে সংস্থাটি উচ্চমানের G-12 গ্রেডের কয়লা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেছে।

Also Read | প্রধানমন্ত্রী আবাসে ১ লক্ষ বাড়ি-একাধিক গবেষণাগারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কীভাবে সামনে এল অভিযোগ?

চলতি বছরের ২১ মে নাগপুরে রেলওয়ের ভিজিল্যান্স বিভাগের একটি আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বিষয়টি সামনে আসে। সেই সময় রেল সাইডিংয়ে প্রায় ১,৪২৭ মেট্রিক টন কয়লা জমা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ওই কয়লার নমুনা পরীক্ষার জন্য সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড ফুয়েল রিসার্চ (CIMFR), নাগপুর-এ পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়, উদ্ধার হওয়া নমুনায় G-12 গ্রেডের কয়লা রয়েছে।

Also Read | জুম্মার নামাজ পড়া যাবেইনা ভোজশালায়! কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

১৮টি গেট পাস ব্যবহার করে কয়লা সরানোর অভিযোগ

সিবিআইয়ের এফআইআর অনুযায়ী, অভিযুক্ত সংস্থা ২১ মার্চ এবং ২৪ মার্চ মোট ১৮টি গেট পাস ব্যবহার করে ৭২০ মেট্রিক টন G-12 গ্রেডের কয়লা রেল সাইডিং থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। অভিযোগ, প্রত্যাখ্যাত কয়লা সরানোর নাম করে এই উন্নত মানের কয়লা বাইরে বিক্রি করা হয়।

রেল আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায়

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই পুরো ঘটনায় দক্ষিণ পূর্ব মধ্য রেলওয়ের কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় কর্মী বা আধিকারিকের যোগসাজশ থাকতে পারে।
সেই কারণেই সংস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেল আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি ষড়যন্ত্র এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Also Read | ১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা, রবীন্দ্র সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান

তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই

সিবিআই জানিয়েছে, কয়লা আত্মসাতের পুরো চক্র, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নথি, গেট পাস এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।