একুশে জুলাইয়ের (21 July TMC) শহিদ স্মরণ সভা তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। গত দেড় দশক ধরে এই দিনটি ঘিরে দলের শক্তি প্রদর্শন, কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত এবং রাজনৈতিক বার্তার দিকে নজর থাকে গোটা রাজ্যের। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একুশের সেই জাঁকজমক আর আগের মতো থাকবে না, এমন ইঙ্গিত মিলছিল। এবার সভার স্থান নিয়েই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ১৫ বছর ধরে ধর্মতলা ও ব্রিগেড ঘিরে একুশে জুলাইয়ের(21 July TMC) অনুষ্ঠান ছিল তৃণমূলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক মঞ্চ। শুধু কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নয়, মঞ্চে কারা থাকছেন, কোন নেতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন তা নিয়েও তৈরি হত নানা জল্পনা। অনেক সময় এমন কিছু নেতাকে মঞ্চে দেখা যেত, যাঁদের উপস্থিতি নিয়ে আগে থেকে কোনও ঘোষণা থাকত না। সেই চমকও ছিল একুশের সভার অন্যতম আকর্ষণ। আর গোটা অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এবারের একুশে জুলাইয়ের (21 July TMC) ছবি অনেকটাই ভিন্ন। সভার এক সপ্তাহ আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস নিশ্চিত করতে পারেনি, কোথায় হবে শহিদ স্মরণ সভা। মঙ্গলবার, ২১ জুলাই কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে এবারের আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি জটিলতা।
সূত্রের খবর, এবারের একুশে জুলাই কার্যত দুই শিবিরে ভাগ হয়ে পালিত হতে চলেছে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ইতিমধ্যেই তাদের কর্মসূচির জায়গা ঠিক করে ফেলেছে। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে একুশে জুলাই পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই শিবির। এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থী (21 July TMC) তৃণমূল এখনও সভার জায়গা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। কলকাতা পুলিশের তরফে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সোমবার লালবাজারে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। সেই বৈঠকের পর ব্রিগেডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে ব্রিগেডের প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূলের একাংশের। দলের নেতাদের বক্তব্য, বর্ষার সময়ে ব্রিগেড ময়দানে সভা করা কঠিন হতে পারে। বৃষ্টির কারণে মাঠে জল-কাদা জমলে কর্মী-সমর্থকদের সমস্যা তৈরি হবে। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এবং সভার আয়োজন দুই ক্ষেত্রেই অসুবিধা হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এর ফলে একুশে জুলাইয়ের সভার স্থান নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একদিকে অনুমোদিত জায়গা হিসেবে রয়েছে ব্রিগেড, অন্যদিকে দলের একাংশ চাইছে এমন কোনও জায়গা, যেখানে কর্মী-সমর্থকদের জন্য আয়োজন করা সহজ হবে এবং বর্ষার পরিস্থিতিতেও সমস্যা কম হবে।





