কলকাতা: রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে সোমবার সব জেলার বিধায়ক, জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সমন্বয় বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শ্রাবণ মেলা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন তিনি।
রথযাত্রা ও সরকারি উদ্যোগ
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম কর্তব্য। তাই রথযাত্রায় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা মেলায় রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পরিচালনায় ‘সেবা কেন্দ্র’ খোলা হবে। ওই কেন্দ্রগুলি জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও রথযাত্রা কমিটিগুলির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হবে।
ইতিমধ্যেই ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান, কোনো ত্রুটি থাকলে তা যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়, আগামী দিনে আরও নিখুঁত তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হবে। এই অনুদানের অর্থ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ধর্মীয় স্থান ও তীর্থক্ষেত্র সার্কিট
রাজ্য বাজেটে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাচীন মঠ ও মন্দিরের সংস্কার এবং সেগুলিকে ‘হেরিটেজ’ বা ঐতিহ্যের আওতায় আনার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নতি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শ্রাবণ মেলার জন্য বিশেষ ঘোষণা
এবারের শ্রাবণ মেলা উপলক্ষ্যে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনটি প্রধান শিব মন্দির, হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং জয়ন্তীর শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিশ্রামাগার ও পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প তৈরি করা হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণাটি হল, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জল ঢালতে আসা পুণ্যার্থীদের ওপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১৪ জুলাই তিনি নিজে তারকেশ্বর ধামে যাবেন এবং ১৬ জুলাই কলকাতার ইসকনের রথযাত্রায় অংশ নেবেন।





