দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোমবার শুরু হচ্ছে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে মোহনবাগানের অভিযান (Sayan Banerjee)। প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ পাঠচক্র। ঘরোয়া ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নামছে সবুজ-মেরুন শিবির। নতুন কোচ বাস্তব রায়ের অধীনে এ বার বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারকে নিয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছে মোহনবাগান, ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে এক অভিনব সিদ্ধান্তের কথা জানায় ক্লাব। পুরো মরশুমে নেতৃত্বের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে চার ফুটবলারের মধ্যে। কিয়ান নাসিরি, অভিষেক সূর্যবংশী, সুহেল ভাট এবং দীপেন্দু বিশ্বাস পর্যায়ক্রমে অধিনায়কের দায়িত্ব সামলাবেন। তবে দলের মূল অধিনায়ক হিসেবে কিয়ানই থাকবেন।
আরও দেখুনঃ বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ইউরোপীয় মহারণ, মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন
দীর্ঘ লিগে নেতৃত্বের চাপ ভাগ করে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক ফুটবলারের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। কোচ বাস্তব রায় জানান, কাগজে-কলমে দল শক্তিশালী হলেও প্রকৃত মূল্যায়ন হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। তাঁর মতে, মোহনবাগানকে সেরা প্রমাণ করতে হলে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। প্রথম প্রতিপক্ষ পাঠচক্র সম্পর্কে বিশেষ তথ্য না থাকলেও, লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ায় শুরুটা সতর্কভাবেই করতে চান তিনি।
গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা লিগকে মূলত সিনিয়র দলের জন্য প্রতিভা তৈরির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, এ বার ছবিটা কিছুটা আলাদা। প্রথম দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়মিত খেলার সুযোগ করে দিতেই তাঁদের লিগ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোচের বক্তব্য, অনেকেই সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে পুরো সময় খেলেননি। তাই তাঁদের ম্যাচ-ফিট করে তুলতে কলকাতা লিগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এ বার মোহনবাগানের অন্যতম আকর্ষণ নতুন সদস্য সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। গত মরশুমে তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। ক্লাব বদল নিয়ে কোনও বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না বলেই জানিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার। তাঁর কথায়, পেশাদার ফুটবলে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক।
আরও দেখুনঃ East Bengal: ইস্টবেঙ্গলকে বিদায় জানিয়ে বিশেষ পোস্ট ইজ্জেজারির
নতুন ক্লাবের জার্সিতে নিজের সেরাটা দেওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প নিয়েই তিনি মাঠে নামবেন। পাশাপাশি কলকাতা লিগে ভালো খেলে সিনিয়র দলে জায়গা পাকা করার ইচ্ছার কথাও স্পষ্ট করেছেন।
সায়ন আরও জানান, নতুন সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছেন তিনি। দলের পরিবেশ ইতিবাচক এবং সিনিয়র ফুটবলারদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছেন। বিশেষ করে মোহনবাগানের সিনিয়র দলের অধিনায়ক শুভাশিস বোসের কাছ থেকে পাওয়া উপদেশ তাঁকে অনুপ্রাণিত করছে।
এদিকে কলকাতা লিগকে ঘিরে সংগঠনিক স্তরেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবার এফসি নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হলেও, সুরুচি সংঘের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা শুরু করতে সহযোগিতার জন্য রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজকরা।





