রাত পেরোলেই থমকে যাবে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের ফাইনালের (Spain vs France)দরজায় দাঁড়িয়ে ইউরোপের দুই মহারথী স্পেন ও ফ্রান্স নামছে এমন এক যুদ্ধে, যেখানে এক ভুলই ভেঙে দিতে পারে সোনালি স্বপ্ন। ভারতীয় সময় আজ ১২:৩০ টায় শুরু হওয়া এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে। তাই ফাইনালে ওঠার টিকিটের জন্য এই ম্যাচ যে রুদ্ধশ্বাস হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন শক্তিশালী বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে ছন্দময় পাসিং ফুটবল খেলেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাবিয়ান রুইজ প্রথমে দলকে এগিয়ে দিলেও বেলজিয়াম দ্রুত সমতা ফেরায়। তবে শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে জয়ের হাসি হাসে স্পেন। এই জয় দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ দ্য ওয়াল’-কে ঘিরে জোর জল্পনা ! দ্রাবিড়ই কি ব্রিটিশদের নতুন কোচ ?
অন্যদিকে ফ্রান্সও কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে। দিদিয়ের দেশঁর দল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের উপর ভরসা করেছে। বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ফরাসিদের অন্যতম শক্তি।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্সও বহু স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য স্পেনের সাফল্য বেশি, বিশেষ করে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর স্মৃতি এখনও তাজা। ফলে ফরাসিদের কাছে এই ম্যাচ প্রতিশোধ নেওয়ারও সুযোগ।
স্পেনের মূল শক্তি তাদের মাঝমাঠ। রদ্রির নেতৃত্বে তারা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখে। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো ও পেদ্রির মতো সৃজনশীল ফুটবলাররা আক্রমণে বৈচিত্র্য এনে দেন। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া স্পেনের বড় দুর্বলতা।
আরও দেখুনঃ অসহায় আত্মসমর্পণের আরেক নাম ‘গৌতমী’ ভারত! ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড
দ্রুতগতির প্রতিআক্রমণের সামনে তারা মাঝে মাঝেই বিপাকে পড়ে। ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর গতি ও গোল করার ক্ষমতা যে কোনও রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি অভিজ্ঞ মিডফিল্ড ও শক্তিশালী ডিফেন্স ফরাসিদের ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে বলের দখল দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে না পারা এবং মাঝেমধ্যে আক্রমণে ধার হারানো তাদের দুর্বলতা হতে পারে।
এই সেমিফাইনালের ফল অনেকটাই নির্ভর করবে মাঝমাঠের লড়াইয়ের উপর। স্পেন যদি নিজেদের স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে পারে, তবে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবে। অন্যদিকে ফ্রান্স যদি দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগায়, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে মুহূর্তের মধ্যেই।
গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই ইউরোপীয় মহারণের দিকে। দুই দলের তারকা সমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এক টানটান, উচ্চমানের লড়াই দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা। ফাইনালের পথে আর মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে স্পেন ও ফ্রান্সকে শেষ হাসি হাসবে, তার উত্তর মিলবে মাঠেই।
আরও দেখুনঃ East Bengal: ইস্টবেঙ্গলকে বিদায় জানিয়ে বিশেষ পোস্ট ইজ্জেজারির





