যত কান্ড আর্জেন্টিনা ম্যাচে! রেফারির যত ভুল সিদ্ধান্ত, ভিএআর-এর যত বিতর্কিত প্রয়োগ, সব যেন অবধারিতভাবে শুধু আর্জেন্টিনার ম্যাচেই (FIFA World Cup) দেখতে পাওয়া যায়! কেন বারবার এমন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে? কানসাস সিটিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-১ গোলের জয়ের পর এই প্রশ্নটাই এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। লিওনেল স্কালোনির দলের জয়কে ছাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধুই রেফারির একের পর এক চোখ কপালে তোলা সিদ্ধান্ত।
ম্যাচে তখন টানটান উত্তেজনা, খেলার ফলাফল ১-১ সমতায়। ঠিক সেই সময়ে সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো এবং আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মধ্যে একটি সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামলাতে রেফারি প্রথমে পারেদেসকেই হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল ভিএআর নাটক। ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল পরিচয়ের নিয়ম প্রয়োগ করে রেফারি ভিএআর-এর সাহায্যে পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে নেন! উল্টে তিনি দাবি করেন, এমবোলো নাকি ফাউল আদায়ের জন্য অভিনয় করেছেন। ফলে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। যেহেতু ম্যাচে এমবোলোর আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড ছিল, তাই তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।
Also Read | FIFA World Cup: পেনাল্টি মিসের পর খুনের হুমকি, এস্কোবার স্মৃতি ফিরল কলম্বিয়ার ফুটবলে
রেফারির এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সুইজারল্যান্ডের হেড কোচ মুরাত ইয়াকিন। রেফারি এবং ভিএআর প্রোটোকলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি অগ্রহণযোগ্য নিয়মের দ্বারা আমাদের শাস্তি দেওয়া হলো।” তাঁর দাবি, ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে তাঁদের গেমপ্ল্যান এবং জেতার সুযোগ পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছে।
১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সুযোগের পুরোদস্তুর ফায়দা তোলে আর্জেন্টিনা। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে, ১১২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি টাইমে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্টিনেজ।
Also Read | ছাংতেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মুম্বাই
কিন্তু লাউতারোর এই গোলের পরই জন্ম নেয় আরও এক মেগা বিতর্কের। গোল করার পর উচ্ছ্বাসে গ্যালারিতে দর্শকদের মধ্যে উঠে যান মার্টিনেজ, ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী যা পরিষ্কার হলুদ কার্ডের অপরাধ। যেহেতু ৯৮ মিনিটে তিনি আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন, তাই নিয়ম অনুযায়ী এটি তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড হওয়ার কথা। আর লাল কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাসিত হতেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রেফারি তাঁকে কোনো কার্ডই দেখাননি!
রেফারির এই ‘ভুল’ আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের পথ মসৃণ করলেও, ফুটবল মহলে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সব মিলিয়ে, একরাশ ক্ষোভ এবং রেফারির চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভর করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো সুইজারল্যান্ডকে। আর পিছনে রয়ে গেল সেই অমোঘ প্রশ্ন যত কান্ড কি শুধুই আর্জেন্টিনার ম্যাচে?





