বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার ক্রিকেটে আধার কার্ডকে ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বয়স ও ঠিকানা সংক্রান্ত অনিয়ম রুখতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবার নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর করেছে। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা দিলেই আর দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না; এখন প্রতিটি ক্রিকেটারের আধার কার্ডের আপডেটের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নতুন নিয়মের জেরেই বাংলার একাধিক ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেটাররা নথিপত্রে পরিবর্তন এনে অন্য রাজ্যের হয়ে খেলছেন। বিশেষ করে স্থানীয় ঠিকানা দেখিয়ে বহিরাগত ক্রিকেটারদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সেই সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হতে চলেছে। ফলে যাঁদের নথিতে অতীতে কোনও সংশোধন করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
Also Read | FIFA World Cup: পেনাল্টি মিসের পর খুনের হুমকি, এস্কোবার স্মৃতি ফিরল কলম্বিয়ার ফুটবলে
আগেই ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পেসার রবি কুমার এবং অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের স্পিনার রোহিত যাদবের আধার কার্ডের তথ্য সংশোধন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বাংলার সিনিয়র দলের সঙ্গে যুক্ত দুই স্পিনার রাহুল প্রসাদ ও বিশাল ভাটি। দু’জনেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পেরিয়ে সিনিয়র দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং গত মরশুমে নিয়মিত খেলেছেন। কিন্তু নতুন মরশুমে তাঁরা বাংলার জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
এই অনিশ্চয়তার ছাপ পড়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের পরিকল্পনাতেও। ভবিষ্যতের বোলার তৈরির লক্ষ্যে শুরু হতে চলা ‘ভিশন ২০২৮’ প্রকল্পের ক্যাম্পে তাঁদের নাম রাখা হয়নি। সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে রাহুল ও বিশালের অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নথি যাচাইয়ের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
Also Read | ছাংতেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মুম্বাই
অবশ্য দুই ক্রিকেটারই জানিয়েছেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। রাহুলের দাবি, তাঁর জন্মসালের একটি ভুল সংশোধন করা হয়েছে এবং সেই সংশোধনের সমর্থনে বৈধ নথি তাঁর কাছে রয়েছে। অন্যদিকে বিশাল জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র ঠিকানার পরিবর্তন করেছিলেন। তবুও বোর্ডের নতুন নির্দেশিকার কারণে তাঁদের নথি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এত দিন ক্রিকেটারদের নিবন্ধনের সময় সাধারণত জন্মসনদ, অভিভাবকের ভোটার কার্ড, স্থানীয় আধার কার্ড এবং বিদ্যালয়ের নথি জমা দিলেই কাজ সম্পন্ন হত। কিন্তু এখন আধার কার্ডের পরিবর্তনের পূর্ণ ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে জন্মস্থান, জন্মতারিখ ও বর্তমান ঠিকানার তথ্য একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। উদ্দেশ্য একটাই—যাতে বয়স জালিয়াতি বা ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে কেউ সুবিধা নিতে না পারেন।
Also Read | মোহনবাগানের পথেই ছাংতে, ঘোষণার অপেক্ষায় সমর্থকরা
ক্রিকেটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে প্রকৃত ক্রিকেটারদের অযথা হয়রানির শিকার না হতে হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলে ক্রিকেটারদের অনিশ্চয়তা কাটবে এবং বাংলার ক্রিকেটও নতুন নিয়মের সঙ্গে সুস্থভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।





