বিট্টু দত্ত, কলকাতা: আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে লিওনেল মেসি (Lionel Messi) ও ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরোর মধ্যে হওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বাগ্বিতণ্ডা।
প্রথমার্ধে একটি ফ্রি-কিকের সময় ঘটনাটির সূত্রপাত। আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ ওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন পর্তুগিজ রেফারি পিনেইরো। নিয়ম অনুযায়ী এই নির্দেশ দেওয়া স্বাভাবিক হলেও, রেফারির কথা বলার ভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি মেসির পছন্দ হয়নি বলেই মনে হয়। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, মাঠে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই কথা বলা উচিত।
Also Read | FIFA World Cup: পেনাল্টি মিসের পর খুনের হুমকি, এস্কোবার স্মৃতি ফিরল কলম্বিয়ার ফুটবলে
টেলিভিশনের দৃশ্যে দেখা যায়, মেসি রাগে উত্তেজিত হয়ে ওঠেননি। বরং শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতেই তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর শরীরী ভাষাতেও ছিল নিয়ন্ত্রণের ছাপ; হাত পিছনে রেখেই তিনি রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। মেসির বক্তব্যের মূল সুর ছিল একটাই—খেলোয়াড় ও রেফারির মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকা জরুরি।
ফ্রি-কিক নেওয়ার পরও দু’জনকে আবার কথা বলতে দেখা যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্ত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মেসির আচরণে সংযমের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মনে করেছেন যে ম্যাচের চাপ ও গুরুত্বই এই মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি সিদ্ধান্তই যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, এই ঘটনা যেন তারই আরেকটি উদাহরণ।
Also Read | ছাংতেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মুম্বাই
ম্যাচের রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরো ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচিত নাম। পর্তুগালের ভিলা নোভা দে ফামালিকাও শহরে জন্ম নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
অবশেষে ম্যাচের ফলই সবচেয়ে বড় কথা হয়ে দাঁড়ায়। আর্জেন্টিনা তিনটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে এবং শিরোপার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু মাঠের সেই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও সমানভাবে আলোচনায় থেকে যায়, কারণ তা ফুটবলে সম্মান, যোগাযোগ এবং আবেগের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। মেসি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও পুরো পরিস্থিতি সামলেছেন শান্তভাবে, যা তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বেরই পরিচয় বহন করে।
Also Read | মোহনবাগানের পথেই ছাংতে, ঘোষণার অপেক্ষায় সমর্থকরা





