অসহায় আত্মসমর্পণের আরেক নাম ‘গৌতমী’ ভারত! ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড

২৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০১ রানেই থামে ভারত। ৫৬ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে নিজেদের দখলে নিল ইংল্যান্ড।

india-vs-england-t20-series-england-win-4-0

পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে রীতিমতো বিধ্বস্ত এবং চুরমার হয়ে গেল ভারত (IND vs ENG)। গোটা সিরিজ জুড়েই দাপট দেখাল ইংল্যান্ড, আর ভারতকে কার্যত মাটিতে মিশিয়ে দিল। আগের ম্যাচগুলির পর এই ম্যাচেও তার কোনও ব্যতিক্রম হল না। টস জিতে বোলিং করার যে বুমেরাং সিদ্ধান্ত ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক নিয়েছিল, তার চরম মাশুল দিতে হল। জস বাটলার এবং হ্যারি ব্রুকের অতিমানবিক ব্যাটিংয়ের পর, ভারতের ব্যাটিং লাইনআপও ২৫৮ রানের বিশাল চাপ সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল। শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানে ম্যাচ হারার পাশাপাশি ৪-০ ব্যবধানে লজ্জার সিরিজ হার সঙ্গী হল শ্রেয়স আইয়ারের দলের।

এদিন নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছিল ইংল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ফিল সল্টকে (৬) ফিরিয়ে দিয়ে ভারতকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন প্রসিধ কৃষ্ণা। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ব্রিটিশ তাণ্ডব। দ্বিতীয় উইকেটে ২৩৩ রানের এক অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন বাটলার ও অধিনায়ক ব্রুক। মাত্র ৬৪ বলে ১৩১ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন জস বাটলার (১২টি চার, ৮টি ছক্কা)। অন্যদিকে ব্রুক মাত্র ৫ রানের জন্য শতরান ফস্কালেও ৪৫ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের (৪টি চার, ৮টি ছক্কা) ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলেন। স্পিনারদের ওপর দিয়ে কার্যত স্টিমরোলার চলে। অক্ষর প্যাটেল (৪ ওভারে ৬৩) এবং প্রিয়াংশু যাদব (৪ ওভারে ৬০) বেদম প্রহার হজম করেন।

২৫৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল ভারত। পাহাড়প্রমাণ এই রানের চাপ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ৩ রান করে জোফ্রা আর্চারের শিকার হন। সঞ্জু স্যামসন ১৪ বলে ২৭ রান করে কিছুটা চেষ্টা করলেও স্যাম কারানের বলে ফিরে যান।

মাঝের দিকে ঈশান কিষাণ এবং তিলক বর্মা লড়াইয়ের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু আস্কিং রেটের পাহাড়প্রমাণ চাপ তাঁদের ইনিংসগুলোকে ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট হতে দেয়নি। ঈশান কিষাণ ৩৫ বলে ৫৬ রান (৭টি চার, ২টি ছক্কা) এবং তিলক বর্মা ২৫ বলে ৫৩ রানের (৩টি চার, ৪টি ছক্কা) লড়াকু অর্ধশতরান করেন। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ১৬ বলে ২৮ রান করে আউট হন। শিবম দুবে (১৪) বা সূর্যাংশ শেডগে (৭) কেউই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।

ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফলতম বোলার স্যাম কারান। ৪ ওভারে মাত্র ৩৬ রান দিয়ে তিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। আদিল রশিদ ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। জোফ্রা আর্চার, জশ টাং এবং লিয়াম ডসন প্রত্যেকেই পান ১টি করে উইকেট।

গোটা সিরিজে ইংল্যান্ড যেভাবে ব্যাটে-বলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলা করল এবং আক্ষরিক অর্থেই চুরমার করে দিল, তা ভারতীয় দলের কৌশল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। ৪-০ ব্যবধানে এই সিরিজ হার ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক চরম লজ্জার অধ্যায় হয়েই থেকে যাবে।