মোদী সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা! বিশ্বে সৌর শক্তিতে ২ নম্বরে ভারত

নয়াদিল্লি: ভারত সৌরশক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃদ্ধির বাজারে পরিণত হয়েছে (solar growth)। ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে প্রায় ৩৭ গিগাওয়াট সৌরক্ষমতা যোগ হয়েছে, যা…

india-solar-growth-2025

নয়াদিল্লি: ভারত সৌরশক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃদ্ধির বাজারে পরিণত হয়েছে (solar growth)। ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে প্রায় ৩৭ গিগাওয়াট সৌরক্ষমতা যোগ হয়েছে, যা এক অসাধারণ অগ্রগতির উদাহরণ। ২০১৪ সালের আগে ভারত সৌরশক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দশেও ছিল না। তখন দেশের মোট সৌরক্ষমতা ছিল মাত্র ২.৮২ গিগাওয়াট।

আজ সেই ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সৌরশক্তি উৎপাদক দেশ হয়ে উঠেছে। এই বিপুল পরিবর্তনকে অনেকে ‘ভারতের সবুজ বিপ্লব’ বলে অভিহিত করছেন।সৌরশক্তির এই অগ্রগতি শুধু সংখ্যার নয়, বাস্তব জীবনের উন্নয়নের গল্পও বহন করে। গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবারের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। দিনের বেলা বিদ্যুৎ না থাকার সমস্যা অনেকাংশে কমেছে।

আরও দেখুনঃ ভিয়েতনামের ফু কোক দ্বীপে ভয়ঙ্কর স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ ভারতীয়

স্কুল, হাসপাতাল ও ছোট শিল্প ইউনিটগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি ক্ষমতা অর্জন করা। এর মধ্যে সৌরশক্তির অবদান সবচেয়ে বড়।ভারতের সৌরশক্তি যাত্রার সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো কচ্ছের রণ অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌর খামার নির্মাণ।

এর ক্ষমতা হবে ৩০ গিগাওয়াট। এই একটি প্রকল্পই প্রায় আড়াই কোটি আমেরিকান বাড়িকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। বিশাল মরুভূমি এলাকাকে কাজে লাগিয়ে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের শক্তি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হবে। প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

আরও দেখুনঃ নমো ভারত ট্রেনগুলি চলতে পারে ৩ মিনিট অন্তর! ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত রেলের

সৌরশক্তির এই উত্থানের পেছনে রয়েছে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সৌর প্যানেল উৎপাদনে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ‘প্লাস ওয়ান’ নীতির ফলে আমদানি নির্ভরতা কমেছে। রুফটপ সোলার প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও এখন বিদ্যুৎ উৎপাদক হয়ে উঠছেন। গ্রামে গ্রামে সৌর পাম্প, সৌর মাইক্রোগ্রিড এবং সৌর স্ট্রিট লাইট দেখা যাচ্ছে।

এতে কার্বন নিঃসরণ কমছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভারতের অবদান বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অগ্রগতি শুধু শক্তি নিরাপত্তার নয়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতারও প্রতীক। সৌরশক্তির খরচ কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদন খরচ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সৌর কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করছে।

আরও দেখুনঃ নৌসেনায় সামিল ‘মেঘনাদ’: নজর এড়িয়েই চলবে আইএনএস মহেন্দ্রগিরি

বিশ্বের অনেক দেশ এখন ভারতের সৌর মডেল অনুসরণ করতে চাইছে।তবে চ্যালেঞ্জও আছে। সৌরশক্তি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। সঞ্চয় ব্যবস্থা এবং গ্রিডের আধুনিকীকরণ আরও জরুরি। কিন্তু সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এসব ক্ষেত্রেও উন্নতি হচ্ছে। কচ্ছের মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন রাজ্যে বড় বড় সৌর পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।