ফের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পতন। সূত্রের খবর অনুযায়ী (Bangladesh)এবার ভারতীয় সুতোর ডিউটি-ফ্রি আমদানি বন্ধ করে শুল্ক আরোপের চিন্তা করছে ঢাকা। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দেশের টেক্সটাইল মিল মালিকদের চাপে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। যা এবারে সুযোগ বুঝে আরোপ করতে চলেছে তারা। বাংলাদেশের এই পদক্ষেপেই ফের ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরী হয়েছে ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি এই মুহূর্তে ভারতীয় সুতোর উপরে শুল্ক আরোপ করতে হবে। বাংলাদেশের স্পিনিং মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন যে ভারত থেকে যে সস্তা, সাবসিডাইজড সুতো আমদানি করা হচ্ছে তাতে তাদের ব্যবসা ধ্বংস হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি কেজি সুতো আমদানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পরিকল্পনা মামার
এর মধ্যে ৭৮-৮২ শতাংশই ভারত থেকে। ডিউটি-ফ্রি সুবিধার কারণে ভারতীয় ইয়ার্ন স্থানীয় উৎপাদনের চেয়ে ৩০-৩৫ সেন্ট প্রতি কেজি সস্তা পড়ছে। ফলে গত কয়েক মাসে ৫০টিরও বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে, আরও ৫০টি ঝুঁকিতে। প্রায় ২ লক্ষ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, আর ধর্মঘট হলে ১০ লক্ষেরও বেশি চাকরি বিপন্ন হতে পারে। BTMA প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, ডিউটি ফ্রি সুতো আমদানি বন্ধ না হলে দেশের টেক্সটাইল কারখানাগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তারা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল রেভিনিউ বোর্ডকে সুপারিশ করেছে যে ১০-৩০ কাউন্টের সুতোর ডিউটি-ফ্রি সুবিধা বন্ধ করা হোক, এবং ১০-২০ শতাংশ সেফগার্ড ট্যারিফ আরোপ করা হোক। এদিকে, কাঁচা তুলোর আমদানিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ব্রাজিল ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা তুলো সরবরাহকারী হয়েছে।
USDA রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪-২৫ মার্কেটিং ইয়ারে বাংলাদেশ ৮.২৮ মিলিয়ন বেল তুলো আমদানি করেছে, যার ২৫ শতাংশ ব্রাজিল থেকে, ভারত থেকে মাত্র ১৫ শতাংশ। চীন ফিনিশড ফ্যাব্রিক্সের প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু ইয়ার্নে ভারতের আধিপত্য অটুট। ভারত থেকে প্রায় ৮২ শতাংশ সুতো বাংলাদেশে আমদানি হয়। এই শুল্কের চিন্তা দুই দেশের বাণিজ্যে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ভারতের টেক্সটাইল খাত, বিশেষ করে সুরাট এবং বিদর্ভের মিল মালিকরা উদ্বিগ্ন। ভিদর্ভায় প্রতি মাসে উৎপাদিত ইয়ার্নের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশে যায়। ট্যারিফ হলে ভারতে ইয়ার্নের দাম পড়ে যাবে, কটনের দাম কমবে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের RMG এক্সপোর্টাররা ভারতীয় সুতোর উপর নির্ভরশীল। সস্তা সুতো না পেলে তাদের খরচ বাড়বে, প্রতিযোগিতা কমবে।




















