কলকাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তার পরেই গণপিটুনিতে যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শনিবার সূর্যপুরে পৌঁছে উভয় পরিবারের সঙ্গেই দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
গত মঙ্গলবার নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির আবেদন জানিয়েছিল। মাত্র চার দিনের মধ্যেই সেই আবেদন কার্যকর করে শনিবার সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘এখানে একরত্তি মেয়ের ওপর যে নৃশংস অত্যাচার হয়েছে, তার তদন্তে পরিবার দারুণ সহযোগিতা করেছে। চার অভিযুক্তকে বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ধরে আনা হয়েছে।’’ ওই ঘটনায় এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে সিআইডি তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে তিনি বিশেষ মন্তব্য করতে চাননি।
ইন্দ্রজিতের পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নিল সরকার
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল হত্যাকাণ্ড নিয়েও এদিন কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে হাত-পা বেঁধে এক ৩৫ বছরের যুবককে খুন করা হয়েছে। এর পিছনে ভোটে প্রত্যাখ্যাত কিছু মানুষের উস্কানি রয়েছে।’’ অভিযুক্তদের বকখালি, দিঘা থেকে ধরে আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘‘ইন্দ্রকে ফেরানো সম্ভব নয়, কিন্তু তার পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে।’’ ইন্দ্রজিতের পরিবারের জন্য বাড়ি মেরামত, বাবার বার্ধক্য ভাতা ও মায়ের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
‘খুনি-ধর্ষকরা ভয়ে থাকুক, সাধারণের ভয়ের কারণ নেই’
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ ও রেল অবরোধের ঘটনায় পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ ছিল। নির্যাতিতার বাবা সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। জবাবে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রেললাইনের ক্ষতি করেছেন যাঁরা, তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁদের শাস্তি পেতেই হবে। তবে নিরীহ কেউ যেন পুলিশি হেনস্থার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘খুনি, ধর্ষক, ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক। সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’’
অন্যদিকে, নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে বলে জানালেও, কী ধরনের সাহায্য করা হয়েছে তা নিয়ে নীরবই থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘পরিবার চাইলে বলবে।’’ দোষীদের দ্রুত ‘কাস্টডি ট্রায়াল’ ও মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই দুই ঘটনার ন্যায়বিচারে সরকার কোনো আপস করবে না।
মুর্শিদাবাদে ২ সপ্তাহে আটক ২৫ বাংলাদেশি! লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৩২
UCC বিল পর্যালোচনায় তৈরী ৯ জনের কমিটি! কে কে স্থান পেলেন





