বিট্টু দত্ত, কলকতা ডেস্ক: স্পেন ও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) কোয়ার্টার ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই লড়াই যেন আর এক উৎসব। আধুনিক বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপীয় দলগুলির আধিপত্যের কথা প্রায়ই শোনা যায়, আর এই ম্যাচ সেই শক্তিরই আর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হতে চলেছে।
স্পেন এবারের বিশ্বকাপে ধীরে শুরু করলেও দ্রুত নিজেদের পরিচিত ছন্দে ফিরে এসেছে। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র দিয়ে অভিযান শুরু হলেও এরপর দলটি ক্রমশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। আক্রমণাত্মক ফুটবল, মাঝমাঠের দখল এবং তরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে একতরফা জয় এবং পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠা দলটির মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই স্পেন দলের অন্যতম ভরসা লামিনে ইয়ামাল। অল্প বয়সেই তিনি বিশ্বফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ইয়ামাল এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর বিশ্বাস, নকআউট পর্বেই সত্যিকারের বড় ফুটবলারদের পরীক্ষা হয়। তাই বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে তিনি নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
ইয়ামালের ফুটবল-ভাবনায় প্রেরণা জোগান তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং নেইমার। তাঁদের খেলা দেখেই তাঁর বেড়ে ওঠা। বিশেষ করে মেসির বর্তমান ফর্ম তাঁকে অনুপ্রাণিত করছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে বয়স নয়, প্রতিভা ও মানসিক দৃঢ়তাই বড় কথা। একইসঙ্গে রোনাল্ডোর লড়াকু মানসিকতা এবং নেইমারের সৃজনশীলতা থেকেও তিনি শিক্ষা নিয়েছেন।
অন্যদিকে বেলজিয়ামও জানে, স্পেনকে হারাতে হলে ইয়ামালকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবাও কুর্তোয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তরুণ এই উইঙ্গারের গতি ও ড্রিবলিং ক্ষমতা যে কোনও রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তাঁকে কড়া নজরে রাখার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বেলজিয়ামের আশা, সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে তারা স্পেনকে চাপে ফেলতে পারবে।
দুই দলেরই সমৃদ্ধ ফুটবল-ঐতিহ্য রয়েছে। স্পেনের পাসিং ফুটবল যেমন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত, তেমনই বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের ছাপ রেখে চলেছে। ফলে এই ম্যাচে কৌশল, দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য লড়াই দেখা যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সমর্থকেরা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। একটি মুহূর্ত, একটি সিদ্ধান্ত বা একটি অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই স্পেন ও বেলজিয়ামের এই দ্বৈরথ শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং ইউরোপীয় ফুটবলের দুই ভিন্ন দর্শনের মুখোমুখি সংঘর্ষও বটে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন, কে শেষ পর্যন্ত হাসবে বিজয়ের হাসি।





