কলকাতা: রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে ‘গুণ্ডা দমন আইন’ (অ্যান্টি-হুলিগানিজম অ্যাক্ট)। একইসঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) চালুর লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানালেন তিনি।
গুণ্ডা দমন আইন: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
বহরমপুরের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যে আর কোনোভাবেই অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। বিধানসভায় পাশ হওয়া এই নতুন বিলে রাজ্যপালের সিলমোহর মিলেছে। সোমবার থেকে এটি পুরোদমে কার্যকর হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রেললাইন ভাঙা, ট্রেন জ্বালানো, বিডিও অফিস ভাঙচুর বা পুলিশকে মারার দিন শেষ। এসব এখন অতীত। রাজ্যে আইন মেনে সবাইকে চলতে হবে।’’
তোলাবাজি বা বোমাবাজির মতো সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতেই এই কড়া আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, কেউ যদি শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেন বা উস্কানিমূলক ভাষণ দেন, তবে সরাসরি যেন তাঁকে জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘‘থানার বাইরে দাঁড়িয়ে সস্তা ভাষণবাজির দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। পুলিশ নিজের কাজ করছে, কেউ আইন হাতে তুলে নিলে রেহাই নেই।’’
ইউসিসি-র পথে বড় পদক্ষেপ
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর বিষয়ে সরকার যে অত্যন্ত আগ্রহী, তা এদিন আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলেই খুব শীঘ্রই বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করা হবে। তবে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এই বিলের ক্ষেত্রে আদিবাসী ও কুর্মি জনজাতিদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের।
সীমান্ত এলাকায় নারী সুরক্ষা ও পাচার রোধ
মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নারী পাচার বা হিউম্যান ট্রাফিকিং রুখতে পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সবরকম তৎপরতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার সেই ভাবমূর্তি বদলানোর এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে চাইছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





