‘রাম মন্দির কেলেঙ্কারি’ থেকে শিক্ষা: তারাপীঠে প্রণামীর টাকা নিয়ে এল কড়া নিয়ম

তারাপীঠ: অযোধ্যার রাম মন্দির অনুদান বিতর্কের ছায়া এবার তারাপীঠে। মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল তারাপীঠ…

তারাপীঠ: অযোধ্যার রাম মন্দির অনুদান বিতর্কের ছায়া এবার তারাপীঠে। মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল তারাপীঠ মন্দির কমিটি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে মন্দিরে জমা পড়া প্রতিদিনের অনুদানের টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। (tarapith temple take decision donation money)

অনিয়মের অভিযোগ ও নতুন কমিটির উদ্যোগ

দীর্ঘদিন ধরে তারাপীঠ মন্দিরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রাক্তন জেলাশাসক বিধান রায়ের নির্দেশে গঠিত অস্থায়ী কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবির কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা গচ্ছিত ছিল বলে অভিযোগ। এ নিয়ে সেবায়েতদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধলেও তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। সরকার পরিবর্তনের পরেই রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা মন্দিরের আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। সেই দাবির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ১ জুলাই পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে ১৫ জনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভাপতি এবং পুলক চট্টোপাধ্যায়কে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

আড়াই কোটি টাকা জমা

নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে অনুদানের টাকা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ আসে। এরপরই তড়িঘড়ি মন্দিরের অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জমা করা হয়। যদিও প্রাক্তন কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং পাসবইয়ের জটিলতার কারণেই তিনি টাকা নিজের কাছে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। এছাড়া জীবিতকুণ্ড সংস্কারের নামে ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা খরচ হওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। যদিও মন্দির কমিটির নতুন সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সমস্ত হিসাব বুঝে নিয়ে এরপর থেকে নিয়ম মেনে নিয়মিত ব্যাঙ্কেই টাকা রাখা হবে।

মা তারার বেদি নামানোর পরিকল্পনা

আর্থিক স্বচ্ছতার পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের সুবিধার দিকেও নজর দিয়েছে নতুন কমিটি। মা তারার মূর্তি বা বেদি কিছুটা নিচে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরের পুণ্যার্থীরা সহজে মায়ের মুখ দর্শন করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে যাদবপুর ও খড়গপুর আইআইটির প্রযুক্তিগত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের নজর

পুরনো কমিটির জমানার খরচ ও জীবিতকুণ্ড সংস্কারের ব্যয় এখন প্রশাসনের স্ক্যানারে। মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে এই নতুন কড়াকড়ি তারাপীঠের সেবায়েত ও ভক্ত মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপে মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।